আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘ভিডিও ভাইরাল, হুমায়ুন কবীরের উপর বিশ্বাস হারিয়েছি, দলের প্রতি আর কোনও আস্থা নেই। মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জির উন্নয়নই অনুপ্রেরণা’। তৃণমূল কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে এমনটাই শোনা গেল খোদ জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীর গলায়। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভায় ভোটের ঠিক আগেই বিরোধী শিবিরের উইকেট পতন। ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রার্থী নিজেই। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভায় বেশ চাপে পড়ে গেল হুমায়ুন কবীরের দল।
মগরাহাট পশ্চিমের কো-অর্ডিনেটর তথা প্রার্থী সামিম আহমেদের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন মগরাহাট পশ্চিমের জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী আবু সিদ্দিক লস্কর। রবিবাসরীয় সকালে নিজের অনুগামীদের নিয়েই তিনি পৌঁছে যান তৃণমূল কার্যালয়ে। কো-অর্ডিনেটর তথা প্রার্থী সামিম আহমেদ নবাগত দলীয় সতীর্থদের হাতে তুলে দেন তৃণমূলের পতাকা।
এই যোগদান নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সামিম আহমেদ বলেন, ‘হুমায়ুন কবীরের ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। তারা বিজেপির বি টিম হিসেবে কাজ করছে। তারা বিজেপির থেকে টাকাও নিয়েছে। ফলে সেখান থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী আবু সিদ্দিক লস্কর যোগ দিলেন তৃণমূলে। তিনি এবার নির্বাচনের প্রচারেও নামবেন।’
কো-অর্ডিনেটর, প্রার্থী সামিম আহমেদের নিখুঁত পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজি, নির্বাচনী ব্যাটেল ফিল্ডে ইলেকশন গেমে আর গেম টাইম পেল না হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি। গেম শুরুর আগেই মগরাহাট পশ্চিমে জনতা উন্নয়ন পার্টির গেম ওভার। ক্ষুরধার মস্তিষ্কে নিখুঁত পলিটিকাল স্ট্রাটেজি, সামিম আহমেদের পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজির সামনেই মুখ থুবড়ে পড়ল হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিও ভাইরা হয়। সেখানে দেখা যায় হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আপনারা আমায় সমর্থন করুন। এটা যেন গোপন থাকে। ভোটের সময় কেউ যেন জানতে না পারে যে বিজেপির সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে’। তৃণমূল সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ২০ মিনিটের ভিডিও দেখানো হয় যার সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল। ভিডিওটি ইউটিউবেও প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপি নেতৃত্বের কথোপকথন হচ্ছে। বাংলায় মমতা ব্যানার্জির সরকারকে উৎখাত করতে কীভাবে টাকা ছড়িয়ে ভোট ভাগাভাগি করা হবে, কীভাবে মুসলিম ভোটারদের বোকা বানাতে হবে, কীভাবে বিজেপিকে সমর্থন করবেন হুমায়ুন তা সামনে এসেছে। ভিডিওতে হুমায়ুনকে দাবি করতে শোনা গিয়েছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও কথা বলেছে তাঁর সঙ্গে। যে কোনও মূল্যে মমতাকে হারাতে ১০০০ কোটি টাকা লাগবে বলেও দাবি করেছেন হুমায়ুন। এরপরই তার নতুন তৈরি দলে ভাঙন ধরতে শুরু করে। সেই তালিকায় এবার যোগ হল নবতম সংযোজন।















