আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভার অন্তর্গত নারকেলবাড়ি-ফেরিঘাট ময়দানে এক বিশাল জনসভা থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর সাফ জানিয়ে দিলেন ওই আসন থেকে তিনি পদত্যাগ করছেন এবং তাঁর ছেড়ে আসা ওই আসনে আগামী দিন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাঁরই ছেলে গোলাম নবী আজাদ রবিন।
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের কিছুদিন আগেই হুমায়ুন কবীর নিজের নতুন রাজনৈতিক দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করেন। তাঁর দলের প্রার্থীরা রাজ্যের শতাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদ জেলার যে দু'টি আসন- নওদা এবং রেজিনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কেবল সেই আসনেই হাতা খুলতে পেরেছে তাঁর দল। যদিও সাংবিধানিক নিয়মে একজন ব্যক্তি দু'টি বিধানসভার বিধায়ক থাকতে পারে না। তাই হুমায়ুন কবীরকে একটি আসন ছেড়ে দিতেই হত।
নির্বাচনের জয়ের শংসাপত্র হাতেই হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছিলেন তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেবেন নওদা থেকেই বিধায়ক থাকবেন। রেজিনগর আসনে তাঁর ছেলের রবিনকে প্রার্থী করার কথা গত ৪ তারিখে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। তবে সেদিন হুমায়ুন জানিয়েছিলেন একটি নির্দিষ্ট দিনে রেজিনগরের সমস্ত ভোটারদেরকে ডেকে তাঁদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ছেলেকে ওই কেন্দ্রের প্রার্থী করার কথা ঘোষণা করবেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রেজিনগরের নারকেলবাড়ি ফেরিঘাট ময়দানে কয়েক হাজার মানুষের সামনে হুমায়ুন ঘোষণা করেন আগামী ১৪ মে তিনি রেজিনগর বিধানসভার বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
হুমায়ুন আরও দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন পদত্যাগ করার চার মাসের মধ্যে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপ -নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন," শুক্রবার আমি কলকাতা যাবো। শনিবার আমার পদত্যাগ করার ইচ্ছা ছিল। যদিও সেদিন বিজেপির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান থাকায় আমি পদত্যাগ করতে পারবো না। আগামী ১৪ মে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পর থেকে পদত্যাগ করে ১৫ তারিখ আবার মুর্শিদাবাদে ফিরে আসবো।"
আজকের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর মমতা ব্যানার্জিকেও তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, 'যে পাপ মমতা ব্যানার্জি করেছেন, তার প্রায়শ্চিত্ত করতেই হতো। এখন তিনি বলছেন বিজেপি তাঁকে হারিয়ে দিয়েছে। বিজেপি যদি এতই ক্ষমতাবান হয় তাহলে আমাকে কেন রেজিনগর আর নওদা-দু'টো বিধানসভা কেন্দ্রেই হারাতে পারেনি? তিনি ভুলে গিয়েছেন মানুষ সঙ্গে থাকলে কেউ কাউকে হারাতে পারে না।'
নিজের নতুন রাজনৈতিক দল তৈরির কারণ জানাতে গিয়ে আজ হুমায়ুন বলেন, 'আমি কোনও অমুসলিমের গোলামী করতে পারবো না। তাই একটা নতুন রাজনৈতিক দল খুলেছি। যতদিন বাঁচবো অন্যায় করব না। কোনও অমুসলিমের গায়ে হাত দেব না। কিন্তু কেউ যদি মনে করে মুর্শিদাবাদ জেলার মুসলমানদের সঙ্গে অন্যায় করবেন তাহলে আমি তাঁদের জানিয়ে দিতে চাই আগুন নিয়ে খেলবেন না।'
আজকের সভামঞ্চ থেকে হুমায়ুন আরও ঘোষণা করেন, 'আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, মুর্শিদাবাদ জেলার সিংহভাগ আসন দখল করবে। এর পাশাপাশি তাঁর ঘোষণা ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থীরা মুশিদাবাদ জেলার তিনটি আসনেই লড়বে এবং তিনি বহরমপুর আসনে লড়বেন।' হুমায়ুন বলেন, 'হিন্দু ভোট যদি এককাট্টা হতে পারে আমিও মুর্শিদাবাদ জেলার মুসলিমদেরকে এককাট্টা করব।' হুমায়ুন আজ আরও জানিয়েছেন-কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ জেলায় ফিরেই আগামী ১৫-১৬ তারিখের পর ফের একবার পুরোদমে বাবরি মসজিদ তৈরীর কাজ তিনি শুরু করবেন।
আজকের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন বলেন, 'রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আমি পদত্যাগ করছি। কিন্তু এর জন্য আমাকে কেউ ভুল বুঝবেন না। আপনারা আমার সঙ্গে থেকেছেন। এই কেন্দ্রে আমি আমার ছেলেকে প্রার্থী করব। রবিন প্রার্থী হওয়া মানে আমি প্রার্থী হওয়া। আমি সকলের কাছে আবেদন রাখছি আমাকে যত ভোটে রেজিনগর কেন্দ্র থেকে জিতিয়েছেন তার থেকে বেশি ভোটে আমার ছেলেকে আপনারা জেতাবেন।"
হুমায়ুন জানান, 'আমি জানতে পেরেছি শুভেন্দু অধিকারী সম্ভবত ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পদত্যাগ করবেন। সে ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন কমিশন রেজিনগর এবং ভবানীপুর এই দু'টি কেন্দ্রে আগামী চার মাসের মধ্যে উপনির্বাচন করবে।'
হুমায়ুন কবীর,অভিষেক ব্যানার্জিকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, 'অভিষেক ব্যানার্জি যেভাবে লুম্পেনের মতো আচরণ করেছেন এবং পুলিশকে ব্যবহার করেছেন তার শিক্ষা মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর ভাইপোকে মানুষ দিয়েছে। তাঁরা এখন মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছেন না।'
















