আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকে লড়বেন এমন ১৮২ জন প্রার্থীর নাম রবিবার ঘোষণা করার কথা থাকলেও রবিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে দলীয় পার্টি অফিস থেকে মাত্র ১৫৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারলেন দলের চেয়ারম্যান  হুমায়ুন কবীর। 

হুমায়ুন এদিন ঘোষণা করেছেন তাঁর দলের কোনও সংখ্যালঘু প্রার্থী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি এবং রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা   শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই কেন্দ্রেই লড়াই করবেন।

হুমায়ুন বলেন,"এই দুই কেন্দ্রে আমাদের দলের কোনও সংখ্যালঘু মুখকে প্রার্থী করা হবে। তবে আজ সেটা আমরা ঘোষণা করছি না।" নিজের নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার পর হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছিলেন তিনি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কিন্তু দিন কয়েক আগে কলকাতার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হঠাৎই সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। হুমায়ুন সেদিন ঘোষণা করেন বেলডাঙার পরিবর্তে তিনি মুর্শিদাবাদেরই রেজিনগর এবং নওদা আসন থেকে লড়াই করবেন। 

কলকাতার সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন আরও ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই  ইয়াসের হায়দার তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধে কান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কিন্তু রবিবার যে তালিকা হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছেন তাতে ইয়াসের হায়দারের আসন পরিবর্তন করা হয়েছে। কান্দির পরিবর্তে ইয়াসের রাণীনগরে তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন বলে এদিন হুমায়ুন ঘোষণা করেছেন। 

নিজের নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন হুমায়ুন কবীর।  নিজের প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দলের নাম ইতিমধ্যে একবার পরিবর্তন করতে হয়েছে তাঁকে।  

জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে  নথিভুক্ত থাকায় হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক দলের আগে এখন 'আম' শব্দটি বসাতে হচ্ছে।  

তাঁর দলের নতুন নাম এখন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'। জাতীয় নির্বাচন কমিশনে  হুমায়ুনের দলের 'রেজিস্ট্রেশন' ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হলেও তাঁর দলের প্রার্থীরা কোন প্রতীকে লড়াই করবে তা নিশ্চিত হয়নি। 

হুমায়ূনের দলের প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রেও এদিন পরিকল্পনার যথেষ্ট 'অভাব' দেখা যায়। রাজ্যের জেলাগুলোর বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে গিয়ে একাধিকবার হোঁচট খান তিনি।  

তালিকার কোথাও প্রার্থীর নাম ভুল ছিল ,কোথাও বা প্রার্থীর বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ভুল লেখা ছিল। এর পাশাপাশি কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেও তাঁদের আসন পরিবর্তন করা হবে বলে এদিন হুমায়ুন ঘোষণা করে দিয়েছেন।

বালুরঘাট, রায়গঞ্জ, রামপুরহাট ,করিমপুর ,তেহট্ট, মোথাবাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর-সহ একাধিক কেন্দ্রে হুমায়ুন প্রার্থী দেবেন বললেও এদিনও সেই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারেননি। তিনি বলেন,"এই কেন্দ্রগুলোতে প্রার্থীর নাম এখনও 'পেন্ডিং' রয়েছে।"
   
অন্যদিকে নিজের জেলা মুর্শিদাবাদেই হুমায়ুন কবীর ২২টি আসনে তাঁর দলের প্রার্থীদের নাম এদিনও ঘোষণা করতে পারেননি। রাজ্যের মোট ১৮২টি কেন্দ্রে হুমায়ুনের এদিন প্রাথীর ঘোষণা  করার কথা থাকলেও  সব মিলিয়ে মোট ১৫৩জন প্রার্থীর নাম তিনি ঘোষণা করেছেন।

মুর্শিদাবাদ জেলার বাইশটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দশটি কেন্দ্রে নিজের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। বাকি ১২টি কেন্দ্রে তিনি পরে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন। 

হুমায়ুন নিজের জেলা মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নওদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়বেন বলে এদিন জানিয়েছেন। বেলডাঙা কেন্দ্রে লড়ছেন সৈয়দ আহমেদ কবীর ,ভরতপুর কেন্দ্রে লড়বেন পীরজাদা খোবায়েব আমিন।

মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে হুমায়ুনের দলের প্রার্থী মনীষা পাঠক পাণ্ডে। হরিহরপাড়ায় মহম্মদ বিজয় শেখ, ভগবানগোলা কেন্দ্রে লড়ছেন অপর এক হুমায়ুন কবীর ,রানীনগরে ইয়াসের  হায়দার।

রঘুনাথগঞ্জ , সামশেরগঞ্জ বড়ুয়া, খড়গ্রাম ,জলঙ্গি, নবগ্রাম, কান্দি , সুতি, ডোমকল , লালগোলার মতো আসনগুলোতে হুমায়ুন প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারেননি। 

হুমায়ুন বলেন,"আমার দল রাজ্যে ১৮২টি আসনে লড়বেই।  এই আসন সংখ্যা কিছুটা হয়ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ২৫ তারিখ কলকাতা থেকে বাকি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে এবং আগামী ২৮ তারিখ দলের ইস্তেহার ঘোষনা করা হবে।" তিনি বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল এবার 'তিন সংখ্যার আসন' পার করবে এবং সরকার তৈরি করবে।