আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবারের পর রবিবার ফের একবার নিজের খাস তালুক বহরমপুর শহরে নির্বাচনে প্রচার চালাতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা এবছর বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। 

 

শনিবার সকালে বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় অধীর চৌধুরীকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান শহরের তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। সেই সময় কংগ্রেসকর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তৃণমূল এবং কংগ্রেসকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন, 'হেনস্থা' করা হয় কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীকে। 

 

নির্বাচনী প্রচারে হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার বাক যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন অধীর চৌধুরী এবং বহরমপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জি। 

 

 শনিবারের পর রবিবার ফের একবার নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে বাধার সম্মুখীন হলেন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। রবিবার সকালে ছুটির দিনে বহরমপুর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দয়াময় কালীবাড়ি পাড়ার কাছে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন অধীর চৌধুরী এবং কংগ্রেস সমর্থকরা। সেই সময় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর উমা ঘোষের নেতৃত্বে প্রচুর তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থক অধীর চৌধুরীকে ঘিরে 'গো ব্যাক' স্লোগান দিতে থাকেন। 

 

যদিও গতকালকের ঘটনার পর শিক্ষা নিয়ে অধীর চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারের সামনে এবং পেছনে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে অধীর চৌধুরীকে 'গো ব্যাক' স্লোগান দেওয়া হতে থাকে। 

 

অভিযোগ উঠেছে সামনে পেছনে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জাওয়ান থাকায় এবং তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখানোর কারণে অধীর চৌধুরী ওই এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি এবং তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপও করতে পারেননি। দূর থেকেই ভোটারদের নমস্কার করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন অধীর চৌধুরী। 

 

বিক্ষোভরত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা বলেন, ১৯৯৯ -২০২৪ পর্যন্ত বহরমপুর কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন অধীর চৌধুরী। কিন্তু তিনি শহরের জন্য কোনও উন্নতি করেননি। তিনি দেশের রেল দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তাঁর আমলে এই এলাকার কেউ রেল দপ্তরে সরকারি চাকরি পাননি।

 

তৃণমূল কাউন্সিলর উমা ঘোষ বলেন, "এত বছর কংগ্রেস কোথায় ছিল? ভোটের সময় ভোট রাজনীতি করতে অধীর চৌধুরী এখন ময়দানে নেমেছেন। কিন্তু স্থানীয় মানুষ তাঁকে গ্রহণ করতে পারছেন না। এই কারণেই তিনি যেখানেই নির্বাচনী প্রচার করতে যাচ্ছেন সেখানেই সাধারণ মানুষ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।"

 

নির্বাচনী প্রচাররে ফাঁকে অধীর চৌধুরী বলেন, "মানুষকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু আমি তা হতে দেব না। বহরমপুরে নির্বিঘ্নে অবাধ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করিয়ে আমি ছাড়ব।"