মনিরুল হক, কোচবিহার: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবার কলমবন্দি করতে চলেছেন তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। নিজের রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে আত্মজীবনী লেখার কাজে হাত দিয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই বইয়ের নামও ঠিক করে ফেলেছেন। “নাটাবাড়ি টু নবান্ন ভায়া ডাউয়াগুড়ি”। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁর এই বইয়ে ১৯৬৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উঠে আসবে।
বিশেষ করে কোচবিহারের রাজনীতির পরিবর্তন, দলবদল, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন থাকবে বইয়ের পাতায়। তিনি বলেন, “এখন বাড়িতে বসে আছি, হাতে অনেকটা সময় পাচ্ছি, তাই বই লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুরো বই নিজের হাতে লিখব।”
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসের হাত ধরেই। তাঁর বাবা প্রফুল্ল কুমার ঘোষ সেই সময় কংগ্রেসের সক্রিয় নেতা ছিলেন। সেই সূত্রেই তিনি প্রথমে কংগ্রেসের পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি করেছেন এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও সামলেছেন।
তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী না করায় কিছুটা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এই পরিস্থিতিতে তিনি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করতে চাইছেন।
যদিও রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তিনি। ঘরে বসেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত বিভিন্ন পোস্ট করছেন, যেখানে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য উঠে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই পোস্টগুলি শাসক দলের অন্দরমহলে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করছে।
তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশিত হলে কোচবিহারের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে একাধিক দলীয় অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথের নানা ঘটনা পাঠকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলেই ধারণা।
এখন দেখার, রাজনীতির ময়দান থেকে কলমের জগতে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কতটা সফল হন এবং তাঁর লেখা বই রাজনৈতিক মহলে কতটা প্রভাব ফেলে।
















