আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কা বিধানসভা এবার জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কেন্দ্র হতে চলেছে। ফরাক্কার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে এবার শাসক দল আর টিকিট দেয়নি। তাঁর পরিবর্তে সামশেরগঞ্জের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলামকে এবার ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

আর এরপর থেকেই ফরাক্কায় তৃণমূল বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত একাধিক ব্যক্তি কংগ্রেসের টিকিট পাওয়ার জন্য প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কাছে দরবার করা শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর।
 
সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির তরফ থেকে ইতিমধ্যে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে মহতাব শেখের নাম তাদের দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও ওই ব্যক্তি আদৌ বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে পারবেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলেই জেলা কংগ্রেসের একটি সূত্র জানায়। 


ফরাক্কার ‘‌প্রসিদ্ধ কন্ট্রাক্টর’‌ মহতাব শেখের নামে ভোটার তালিকায় বড়সড় গড়মিল থাকায় তিনি এসআইআর পর্বে নোটিশ পেয়েছিলেন। এসআইআর–এর শুনানির পর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায় ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম পুরোপুরি বাদ গিয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেসের তরফ থেকে মহতাব শেখের নামই তাদের দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকায় কোনও ব্যক্তির নাম না থাকলে তাঁর পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়। 

মহতাব শেখের তরফ থেকে তাঁর আইনজীবীরা ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টেও দরবার করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট গোটা বিষয়টি যথাযথ শুনানির মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিলেও অনেকেরই সংশয় রয়েছে আগামী ৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ের মধ্যে মহতাব শেখের নাম আদৌ ভোটার তালিকায় উঠবে কি না। 

ফরাক্কা বিধানসভা এলাকার অনেকেই মনে করছেন ৬ তারিখ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ের আগে মহতাব শেখের নাম ভোটার তালিকায় তুলে তারপর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া একপ্রকার অসম্ভব। 

এই অনুমান করেই আরও কয়েকজন ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের টিকিটে লড়ার জন্য অধীর চৌধুরী এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে দরবার করা শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, একাধিক নেতা ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা এসডিও অফিসে জমা করে ডিসিআর কেটেও রেখেছেন! 

ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল মনোনয়ন না দেওয়ায় শাসক দলের সঙ্গে গত কয়েকদিনে অনেকটাই দূরত্ব তৈরি করেছেন বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। সূত্রের খবর মহতাব শেখকে কংগ্রেস দল ‘‌প্রতীক’‌ না দিলে তিনি ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক। গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে রাজি না হলেও মনিরুল ইসলাম স্বীকার করেছেন তিনি মহকুমা শাসকের অফিস থেকে ডিসিআর কেটে রেখেছেন। তবে কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে কংগ্রেস সূত্রের খবর মনিরুলের সঙ্গে অধীর চৌধুরীর এই সংক্রান্ত একাধিক বৈঠক হয়েছে। 


সূত্রের খবর, মনিরুল ঘনিষ্ঠ রহিম খান দোবাই নামে আরও একজন মহকুমা শাসকের অফিস থেকে ডিসিআর কেটে রেখেছেন। তবে বিধায়ক ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি কেন ডিসিআর কেটে রেখেছেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।


 ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রতীকে প্রার্থী হয়েছিলেন ওই এলাকার প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মহম্মদ মোস্তফা। মহতাব শেখ আদৌ কংগ্রেসের টিকিটে লড়তে পারবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তিনিও দশ হাজার টাকা দিয়ে ডিসিআর কেটে রেখেছেন বলে জানা গিয়েছে। 


তবে মহম্মদ মোস্তফার ঘনিষ্ঠরা দাবি করেছেন তিনি কোনও মনোনয়নপত্র জমা দেবেন না। তাহলে কী কারণে তিনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে ডিসিআর কাটতে গেলেন সেই উত্তরও মেলেনি। কংগ্রেস সূত্রের খবর, মহতাব কংগ্রেসের ‘‌প্রতীক’‌ না পেলে মোস্তফা কংগ্রেসের ‘‌প্রতীকে’‌ ফরাক্কা কেন্দ্রে লড়তে চান। 

আরও একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেসের ঘোষিত প্রার্থী মহতাব শেখ নিজেও এখনও নিশ্চিত নন আগামী ৬ তারিখ তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন কি না। কংগ্রেস সূত্রের খবর, এই অনিশ্চয়তার কারণে মহতাব শেখ তাঁর নিজের ছেলে বাইতুল শেখের নামেও একটি ডিসিআর কেটে রেখেছেন। 

জেলা কংগ্রেস সূত্রের খবর, কোনও কারণে মহতাব মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারলে দলের দ্বিতীয় পছন্দের প্রার্থী ফরাক্কার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। তবে মহতাব নিজে চাইছেন তিনি প্রার্থী হতে না পারলে ছেলেকে প্রার্থী করার জন্য। 

কংগ্রেস সূত্রের খবর মুর্শিদাবাদ জেলার প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে কে প্রার্থী হবেন তা অধীর চৌধুরী নিজে ঠিক করেছেন। মহতাবের নাম ৬ তারিখের মধ্যে ভোটার তালিকায় না উঠলে মনিরুল ইসলাম কংগ্রেসের টিকিট পান কি না সেদিকেও অনেকের নজর রয়েছে। জেলা কংগ্রেসের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মহতাব শেখের পরিবর্তে এখনই দলের তরফ থেকে মনিরুল ইসলামকে প্রার্থী করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করে দেওয়া হলে কিছু জায়গায় কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে ‘‌স্যাবোটেজ’‌ করা হতে পারে। সেই কারণে আগামী ৬ তারিখের মধ্যে মহতাব শেখ ছাড়াও আরও একাধিক ব্যক্তি কংগ্রেসের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। ফলে শেষপর্যন্ত রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনী কেন্দ্রে কোন ব্যক্তি কংগ্রেসের ‘‌প্রতীক’‌ পান এখন তার দিকেই সকলের নজর।