আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক–বিরোধী তরজা যেমন সুর চড়েছে সপ্তমে, ঠিক তেমনি পশ্চিমবঙ্গে বাংলার সংস্কৃতিকে নষ্ট করার পুরনো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধী দল বিজেপি। এই অভিযোগ নিয়ে ভোটের বাংলায় এবার পথে নেমেছে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ।
ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটের প্রচার শুরু হতেই শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এক ভয়ঙ্কর অসামাজিক ও অমানবিক চিত্র প্রকাশ্যে আসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাড়ির সামনে চলে জুতো ছোড়া, ইট পাটকেল ছোড়া থেকে শুরু করে একাধিক অমানবিক ঘটনা। আক্রান্ত হয় একাধিক সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় দোকানদাররা। যা নিয়ে ভবানীপুরবাসী যথেষ্ট আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিস্থিতি আসে নিয়ন্ত্রণে। আর এই চিত্র শুধু ভবানীপুরেই নয়, সারা রাজ্যজুড়ে নজর কেড়েছে ভোটের বাংলায় বারংবার। আর তাই বাংলা সংস্কৃতিকে রক্ষার দাবি নিয়ে পথে নেমেছে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ নাগরিক সংগঠন।
কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন কেন্দ্র, যার একপাশে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের বাড়ি এবং আর এক পাশে দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাড়ি, সেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সোমবার বিজেপি ও আরএসএসের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নাগরিক সভা সংগঠন করল দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ। দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ নাগরিক সংগঠন হিসেবে প্রথম থেকেই বিজেপির বিভিন্ন অসাংবিধানিক, অনৈতিক কাজকর্মের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে।
প্রথম দফা নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপিকে একটিও ভোট না দেওয়ার দাবি জানাল গণমঞ্চ। সোমবারের পথসভায় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, কবি জয় গোস্বামী, কবি শ্রীজাত, চিকিৎসক শান্তিরঞ্জন দাসগুপ্ত, প্রাক্তন ফুটবলার সমরেশ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার, মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র, অনন্যা চক্রবর্তী, প্রবীণ সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত, অভিনেত্রী পিয়া সেনগুপ্ত, অধ্যাপিকা সৈয়দ তানভীর নাসরীন, চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস, অভিনেতা শ্যামল দত্ত, অভিনেত্রী সোমা চক্রবর্তী, অভিনেতা রাহুল চক্রবর্তী, অভিনেতা অর্ণব ব্যানার্জী, চিকিৎসক সিদ্ধার্থ গুপ্ত, প্রিয়জিৎ মিত্র, সঙ্গীত শিল্পী পর্ণাভ ব্যানার্জি, বাচিক শিল্পী সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাচিক শিল্পী শোভন সুন্দর বসু, বাচিক শিল্পী চিত্রা বসু, অভিনেত্রী এলফিনা মুখোপাধ্যায়, অভিযান প্রকাশনীর প্রকাশক এবং বাংলা একতা মঞ্চের সদস্য মারুফ হোসেন, শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ, সঙ্গীত শিল্পী অমিত কালী, প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী প্রদীপ্ত গুহঠাকুরতা, সুমন ভট্টাচার্য সহ একাধিক বিদ্যজনেরা।
ভবানীপুরের এই পথসভার সূচনা হয় সঙ্গীত শিল্পী অমিত কালীর গান দিয়ে। কবি জয় গোস্বামী জননেত্রী মমতা ব্যানার্জি যেভাবে বাংলাকে লালন–পালন করছেন, সেই প্রসঙ্গ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতিকে রক্ষা করারও ডাক দেন তিনি।
এদিনের পথসভায় অধ্যাপিকা তানভীর নাসরীন বলেন, ‘এই নির্বাচন বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন, এই নির্বাচন বাঙালিকে টিকিয়ে রাখার নির্বাচন।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, নেতাজি এই গেরুয়া পরে ভোট চাইতে আসা মানুষদের উদ্দেশে কী বলেছিলেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা প্রখ্যাত সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য বলেন, ‘আপনি মাছ, মাংস, ডিম, ধোকলা, পনির যাই খান না কেন, আপনি মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, শিখ–যাই হোন না কেন, যদি আপনি বাঙালি হন, তাহলে আপনি বিজেপিকে একটিও ভোট দেবেন না। এই লড়াই কোনও দলের নয়, এই লড়াই বাঙালির সঙ্গে বিজেপির লড়াই। যদি বাংলাকে ভালবাসতে হয়, বাঙালিকে জাতি হিসেবে টিকিযে রাখতে হয, তাহলে মমতা ব্যানার্জিকে আবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফিরিয়ে আনতেই হবে।’ এদিনের এই পথসভায় উপস্থিত বাকিরা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৯২ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে চক্রান্ত করে, বিভিন্ন ধরনের অসাংবিধানিক, অনৈতিকপন্থা অবলম্বন করে তারা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে চাইছে। যদি তারা ঢুকে যায়, তাহলে তারা শুধু মুসলিম বা দলিত মানুষদের নয়, সকল বাংলাবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করবে, সুতরাং বিজেপিকে একটা ভোটও দেওয়া চলবে না।
বলাবাহুল্য, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলা বাঁচাও গণমঞ্চের ভবানীপুরের এই পথসভা জনসাধারণের মনে বিজেপিকে প্রতিহত করার শক্তি জোগাবে।















