আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা কেন্দ্রে এবার ভোটের লড়াই যেন এক অনন্য আবেগের মোড় নিয়েছে। একই মঞ্চে রাজনীতি করা দুই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক—এবার মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বী। বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রঞ্জন শীল শর্মার এই লড়াই ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিতে একসঙ্গে পথ চলা শিখা চট্টোপাধ্যায়কে রঞ্জন শীল শর্মা আজও ‘মা’ বলেই সম্বোধন করেন। পাল্টা শিখাও তাকে নিজের সন্তানের মতোই মনে করেন। যদিও তাদের মধ্যে কোনও রক্তের সম্পর্ক নেই, তবুও দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক অনেকটাই পারিবারিক বন্ধনের মতোই গভীর। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তে এবার সেই ‘মা-ছেলে’ সম্পর্কই রূপ নিয়েছে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

উল্লেখ্য, ২০১১ ও ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন গৌতম দেব। তবে ২০২১ সালে দলীয় টিকিট না পেয়ে তৃণমূল ছাড়েন শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ওই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন। এবার সেই আসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে রঞ্জন শীল শর্মাকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

বুধবার সন্ধ্যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে করে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছান রঞ্জন। তাকে বরণ করে নিতে স্টেশনে উপচে পড়ে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। ফুলের মালা, বাজি আর উচ্ছ্বাসে তাকে স্বাগত জানানো হয়। যদিও এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেননি তিনি, তবে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছেন—এই আসন পুনরুদ্ধার করাই তার লক্ষ্য।

রঞ্জন শীল শর্মা জানান, “শিখা চট্টোপাধ্যায়কে আমি এখনও মা বলেই ডাকি। তার আশীর্বাদ নিয়েই প্রচার শুরু করব। তবে আমার লড়াই হবে উন্নয়ন ও আদর্শের ভিত্তিতে। জিততে পারলে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িকে পুরসভায় রূপান্তর করার চেষ্টা করব।”

অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রঞ্জনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে। কিন্তু রাজনৈতিক লড়াইয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা কী কাজ করেছি, তার জবাব দেবে ভোটবাক্স।”

এই আবেগঘন সম্পর্কের মাঝেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ—ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির ভোটে এবার নজর সবার।