আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের দামামা বাজতেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে পারদ চড়তে শুরু করেছে। আজ কোচবিহারে নিজের প্রথম জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্নীতি থেকে নারী সুরক্ষা— একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলকে বিঁধে মোদি যখন ‘পাপের ঘড়া পূর্ণ’ হওয়ার দাবি করলেন, পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও।

কোচবিহারের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী এদিন সাম্প্রতিক মালদার প্রসঙ্গ টেনে এনে রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “এখানকার সরকার বাংলার মাটিতে গণতন্ত্রকে রক্তাক্ত করেছে। এরা কাউকে মানে না। মালদায় যেভাবে বিচারকদের বন্দি করে রাখা হল, তা প্রমাণ করে এখানে সংবিধান সুরক্ষিত নয়। তৃণমূলের এই জঙ্গলরাজকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও ধিক্কার জানিয়েছে।” এখানেই শেষ নয়, সন্দেশখালি ইস্যু এবং সিন্ডিকেট রাজ নিয়েও সরব হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, একদিকে তৃণমূলের ‘কাটমানি’ আর ‘ভয়’ রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপির রয়েছে ‘বিকাশের গ্যারান্টি’। তিনি সাফ জানান, বাংলার মানুষের লুঠ হওয়া টাকা দুর্নীতিবাজদের ফেরত দিতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঝাঁঝালো মন্তব্যের পাল্টায় ততোধিক কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মোদিকে অতীতের নির্বাচনের ফলাফল মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কি ২০২১-এর নির্বাচনের কথা মনে আছে? বলেছিলেন ‘২০০ পার’, কিন্তু ৭৭-এই থেমে গিয়েছিলেন। চব্বিশের ভোটেও মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে আপনাদের ওপর আস্থা নেই। ১৮ থেকে ১২-তে নেমে এসেছেন আপনারা।” বাংলার বকেয়া টাকা আটকে রাখা নিয়ে সুর চড়িয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিশোধ নিতে আপনারা বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকার প্রাপ্য অধিকার থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করেছেন। আমাদের হিসেব আপনাকে নিতে হবে না। পাপের ঘড়া আপনাদেরই পূর্ণ হয়েছে। বাংলার মানুষ ভোটের মাধ্যমেই আপনাদের প্রতিটি বঞ্চনার হিসেব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোচবিহারের সভা থেকে মোদি আজ স্পষ্ট করে দিলেন যে তাঁর প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে ‘দুর্নীতি’ এবং ‘সন্দেশখালি’। অন্যদিকে, তৃণমূল সেই পুরনো ‘বঞ্চনা’ এবং ‘বাংলার হকের টাকা’ ইস্যুতেই অনড়। লোকসভা নির্বাচনের আগে শাসক-বিরোধী এই কথার লড়াই যে আরও তীব্র হবে, আজকের এই বাদানুবাদ তারই বড়সড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।