আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলে ১০ বছরের এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা ও হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিআইএসএফের এক জওয়ানকে।
ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সিআইএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কুলটি থানার অন্তর্গত শীতলপুর এলাকায় রবিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতিতার বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানান, তাঁর মেয়ে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সিআইএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন একটি আমবাগানে খেলতে গিয়েছিল।
সেই সময় অভিযুক্ত জওয়ান কিশোরীকে ডাকে এবং ভাল আম দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। অভিযোগ, ওই প্রলোভনে কিশোরীকে একটি ঘরের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার উপর যৌন হেনস্থা চালানো হয়।
কিশোরী প্রতিবাদ করলে তাকে ভয় দেখানো হয় এবং কাউকে কিছু জানালে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আতঙ্কিত অবস্থায় কোনওভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বাড়ি ফিরে পুরো ঘটনা জানায় কিশোরী।
ঘটনার কথা জানার পরই নির্যাতিতার পরিবার কুলটি থানায় অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয় এবং শীতলপুরে ইসিএল (ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড)-এর সদর দপ্তর এলাকা থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।
পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৩৭(২) ও ৩৫১ (২) ধারার পাশাপাশি পকসো আইনের ৮ এবং ১০ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। শীতলপুরে ইসিএল সদর দপ্তর থেকে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
অন্য দিকে, ওই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার রাতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। রাস্তাও অবরোধ করেন। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সোমবার সিআইএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছিল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জওয়ানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এক বিবৃতি মারফত জানানো হয়েছে, বাহিনী শৃঙ্খলা, সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় না-দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে।















