আজকাল ওয়েবডেস্ক: আধপোড়া আধার কার্ডের পর এবার বনগাঁর রাস্তা থেকে উদ্ধার বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬। প্রচারে বেরিয়ে রাস্তার পাশ থেকে এসআইআর-এর গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম ৬ উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দিল বনগাঁ উত্তরের সিপিআইএম প্রার্থী পীযুষ কান্তি সাহা। নির্বাচনের নামে প্রহসন হচ্ছে বলেই দাবি বাম প্রার্থীর।
নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে অসৎ পথে বিজেপি কর্মীদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি, এমনই অভিযোগ করলেন বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বাম প্রার্থী পীযুষ ক্রান্তি সাহা বনগাঁ দত্তপাড়া এলাকায় প্রচার করছিলেন দলীয় কর্মীদেরকে সঙ্গে নিয়ে। পীযূষের দাবি, সে সময় রাস্তার পাশে বেশ কিছু কাগজের বান্ডিল দেখতে পান। কৌতূহলবশত সেগুলি তুলে দেখতে পান সেখানে প্রায় কুড়িটি ফার্ম ৬ আছে, নির্দিষ্ট বিএলওর সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।
রাজ্যে যেখানে এসআইআর চলছে, সেখানে রাস্তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন বাম প্রার্থী। তিনি দাবি করেন রাজ্যে নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে। প্রশাসনিক গাভিলতির অভিযোগ তুলেছেন পীযূষ।
এ ব্যাপারে বনগাঁ উত্তর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস দাবি করেন, কুড়িটি ফর্ম ৬-এর মধ্যে দু'টি গঙ্গানন্দপুর পঞ্চায়েত এবং ১৮টি ঘাটবাওর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। এরা সকলেই স্থানীয় বিজেপি কর্মী বলেই দাবি করেন বিশ্বজিৎ। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে অসৎ পথে বিজেপি কর্মীদের নাম তোলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের শাসক দল সরব হয়েছে বারে বারে। দিন কয়েক আগেই সিইও দপ্তরে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। এসবের মাঝেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে বিরাট অভিযোগ করেছেন তিনি।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পোস্ট করে লিখেছেন, 'আমরা যা দেখছি, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা, যা বেড়েই চলেছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।' ঘটনায় তৃণমূল সাংসদের নিশানায় বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। অভিযোগ, সব জেনে বুঝেও, কার্যত না বোঝার ভান করছে তারা। তিনি লিখেছেন, 'মানুষের এটা জানার অধিকার আছে যে তাদের ভোটের কী হচ্ছে। এটি কোনো ছোটখাটো বিষয় নয় - এটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল ভিত্তিকেই নাড়া দেয়।'
এর পরেই অভিষেক বিরাট অভিযোগ করেছেন। লিখেছেন, 'আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে নির্ভরযোগ্য খবর পাচ্ছি যে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৬ (নতুন ভোটার) আবেদনপত্র সন্দেহজনক পদ্ধতিতে জমা দেওয়া হচ্ছে। এগুলো সাধারণ সংযোজন নয়। গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে যে এগুলির মধ্যে এমন অনেকব্যক্তিদের যোগ থাকতে পারে, যাঁদের বাংলার সঙ্গে কোনও প্রকৃত সম্পর্ক নেই—এখানে বসবাসও করেন না, এখানে কাজ করেন না এবং যাঁদের কোনও যোগ নেই এই রাজ্যের কোনও স্বার্থের সঙ্গেই।'
















