আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৫ বছরের প্রতিজ্ঞা পূরণ। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই মাথার চুল কাটলেন পঞ্চায়েত সদস্য সনাতন দাস। গঙ্গাজল দিয়ে পবিত্র করা হল পঞ্চায়েত অফিস।

 

দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান। বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় আসতেই নিজের বহু বছরের প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিদা গ্রামের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য সনাতন দাস। বুধবার পঞ্চায়েত অফিসের সামনেই প্রকাশ্যে মাথার চুল কেটে নিজের সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ করেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং বহু বিজেপি কর্মী-সমর্থক সেখানে উপস্থিত হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সময় থেকেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন সনাতন দাস। সেই সময় তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, “যেদিন বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসবে, সেদিনই মাথার চুল কাটব।” এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ১৫ বছর। রাজনৈতিক নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও নিজের সেই অঙ্গীকার থেকে একবারও সরে যাননি তিনি। 

 

বছর তিনেক আগে তিনি বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকায় দলের সংগঠন শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। অবশেষে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বুধবার সকালেই পঞ্চায়েত অফিসের সামনে বসে নাপিত ডেকে মাথার চুল কাটান সনাতন দাস। সেই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায় স্থানীয় বাসিন্দারাও।

 

সনাতন দাস জানান, “এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞা নয়, এটা ছিল দলের প্রতি আমার বিশ্বাস ও আবেগের প্রতীক। এতদিন অপেক্ষা করেছি, আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তাই প্রতিজ্ঞাও পূরণ করলাম।”

 

বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির ওপর সহ-সভাপতি দেবব্রত ঢালী বলেন, "গঙ্গা জল দিয়ে পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান সহ একাধিক ঘর পবিত্র করলাম৷ কোনও দুর্নীতিবাজদের পঞ্চায়েতে ঢুকতে দেওয়া হবে না৷ বিজেপি ক্ষমতায় আসায় সনাতন দাস ১৫ বছর পর তাঁর চুল কাটলেন৷"

 

বিজেপি নেতা নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষের পরিবর্তনের আশাই বাংলায় বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে। আর সনাতন দাসের এই প্রতিজ্ঞা পূরণ সেই আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ।