আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ ২৮ বছরের এক কঠোর প্রতিজ্ঞা, এক বুক অভিমান আর রাজনৈতিক অপমানের স্মৃতি বুকে নিয়ে খালি পায়েই জীবন কাটিয়েছেন তিনি। অবশেষে ৭২ বছর বয়সে এসে সেই প্রতিজ্ঞার অবসান ঘটালেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা আঙুরবালা সাউ। বহু বছরের অপেক্ষার পর তাঁর পায়ে উঠল নতুন চটি। আর সেই মুহূর্ত ঘিরেই তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। 

 

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৮ সালে। তখন রাজ্যে বামফ্রন্টের দাপট তুঙ্গে। সেই সময় একজন মহিলা হয়েও বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হয়েছিলেন আঙুরবালা সাউ। স্থানীয়দের দাবি, সেই সময় বিরোধী রাজনীতি করার ‘অপরাধে’ তাঁকে নানা রকম সামাজিক এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়। ভোটে পরাজয়ের পর অপমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

 

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময়ই আঙুরবালা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন— যতদিন না রাজনৈতিকভাবে নিজের সম্মান ফিরে পাচ্ছেন, ততদিন আর পায়ে চটি পরবেন না। তারপর থেকেই শুরু হয় তাঁর খালি পায়ে পথচলা। গরমের পিচঢালা রাস্তা হোক কিংবা বর্ষার কাদা, সব অবস্থাতেই তিনি খালি পায়ে চলাফেরা করতেন। পরিবারের বহু অনুরোধ, আত্মীয়-স্বজনের বোঝানো, এমনকী চিকিৎসকদের পরামর্শও তাঁর জেদ ভাঙাতে পারেনি। 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “আমরা ছোটবেলা থেকে দেখছি আঙুরবালাদি খালি পায়ে ঘুরছেন। কখনও বাজার, কখনও রাজনৈতিক কর্মসূচি— সব জায়গাতেই খালি পায়ে যেতেন। এটা শুধু জেদ নয়, তাঁর আত্মসম্মানের লড়াই ছিল।” 

 

সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল এবং এলাকায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পর নিজের বহুদিনের স্বপ্নপূরণ হয়েছে বলে মনে করেন আঙুরবালা। তাঁর দাবি, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি আজ সম্মান ফিরে পেয়েছেন। সেই কারণেই ২৮ বছরের প্রতিজ্ঞা ভেঙে অবশেষে নতুন চটি পরেছেন। 

 

নতুন চটি পায়ে তোলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আঙুরবালা সাউ। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে ছোট্ট এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর পায়ে নতুন চটি পরানো হয়। উপস্থিত অনেকেই সেই দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। 

 

আঙুরবালা বলেন, “২৮ বছর ধরে এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। অপমান ভুলিনি, কিন্তু লড়াইও ছাড়িনি। আজ মনে হচ্ছে আমার জেদ সার্থক হয়েছে।”

এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বাসন্তী এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক, আঙুরবালা সাউয়ের এই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা ও মানসিক দৃঢ়তা নিঃসন্দেহে বিরল এক নজির হয়ে থাকবে।