আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিকদের জন্য বড় প্রতিশ্রুতি দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় এলে রাজ্যের সমস্ত যোগ্য সাংবাদিকদের প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, এই প্রকল্পে কোনও ধরনের বিভাজন করা হবে না। প্রত্যেক সাংবাদিকই এর আওতায় আসবেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘এখানে ‘আমরা বনাম ওরা’ বলে কিছু থাকবে না। প্রত্যেক সাংবাদিক এই সুবিধা পাবেন।’
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকরা যেন নির্ভয়ে কাজ করতে পারে সেই আশ্বাসও দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের জন্য ট্রেন ফ্রি করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন শমীক।
প্রথম দফার ভোটের পাঁচ দিন আগে কলকাতার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তুলোধনা করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাম শাসন থেকে শুরু করে তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের কথা উঠে আসে শমীকের কথায়।
তিনি বলেন, ‘বামেদের ৩৪ বছরের শাসনের পর ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। যার মধ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথাও তিনি বলেছিলেন। কিন্তু কোথায় কী?’ শমীকের অভিযোগ, ‘মমতা ব্যানার্জি সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছেন। কোথায় শিল্প! কোথায় চাকরি!’
শমীক আরও বলেছেন, ‘বর্তমানে বাংলায় চালের উৎপাদন কমেছে। চলে গেছে তৃতীয় স্থানে। পশ্চিমবঙ্গে আলু চাষীদের সর্বনাশ শুরু হয়ে গেছে। দিন দিন আলুর দাম বাড়ছে। শিক্ষকদের চাকরি থেকে শুরু করে এই রাজ্য সরকার এমন কোনও দপ্তরকে দুর্নীতির বাইরে রাখতে পারেনি। মাদ্রাসাতেও দুর্নীতি ঢুকে গেছে।’
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শমীকের দাবি, ‘এই রাজ্যে এখন কোথায় বিনিয়োগ হয়। উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশার মতো রাজ্যে বিনিয়োগ হচ্ছে। বিজেপি সংকল্প পত্র প্রকাশ করেছে। ভোটে জিতলে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। দুর্নীতি ও ভয়মুক্ত সমাজ উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
শমীক আরও জানান, ‘নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাটাই আমাদের লক্ষ্য। এসআইআর নিয়ে এই রাজ্যে যা হয়েছে। তা অন্য কোনও রাজ্যে হয়নি।’
ক্ষমতায় এলে বিজেপি যে মহিলাদের পাশে থাকবে সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শমীক। সংকল্প পত্রে মহিলা সুরক্ষায় যে সমস্ত প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে, তা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।















