আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ এক অস্বাভাবিক দীর্ঘ চলছে এবং এর কারণ আবহাওয়া নয়। আসন্ন নির্বাচনের আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে মদ বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যার ফলে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে টানা প্রায় ন’দিন ‘ড্রাই ডে’ চলবে। সাধারণত, ভোটারদের যাতে প্রলুব্ধ না করা যায়, তা আটকাতে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। কিন্তু এবার এই নিষেধাজ্ঞা আরও এগিয়ে আনা হয়েছে এবং এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত থাকায়, ভোটকেন্দ্রগুলির মদের দোকানগুলি সাধারণ সময়সীমার অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিবৃতি উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, রাজ্য জুড়ে মদের বিক্রি ‘অস্বাভাবিক’ বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য থেকে জানা গিয়েছে যে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের এপ্রিলে ডিপোগুলি থেকে প্যাকেটজাত মদ তোলার পরিমাণে তীব্র বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিশন ‘সংবেদনশীল’ মদের দোকানের সংখ্যাতেও একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছে।
মদের দোকান ও মদ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক প্রভাব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫,০০০ পানশালা এবং মদের দোকান রয়েছে। সাধারণত দৈনিক ৮০-৯০ কোটি টাকার বিক্রি হয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, অনুমান অনুযায়ী এই দীর্ঘ বন্ধের সময় ক্ষতির পরিমাণ ১,৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার মধ্যে শুধু কলকাতাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।
২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন রাজ্যে। শাসক তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি একে অপরকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জোর দিয়ে বলেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কোনও কসুর রাখবে না। তিনি অনিয়ম দমন এবং ভোটারদের আস্থা জাগানোর জন্য একটি বিস্তারিত রূপরেখাও পেশ করেছেন।
রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনাকারী আধিকারিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জ্ঞানেশ কুমার সোমবার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ‘ভয়, সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন এবং প্রলোভনমুক্ত’ নির্বাচন পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্বাচনী অসদাচরণের প্রতি অনমনীয় নীতির উপর জোর দিয়েছেন। সিইসি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, কোনও সরকারি আধিকারিক যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা না করেন।















