আজকাল ওয়েবডেস্ক: গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বেড়গুম-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮৯ এবং ১৯১ নম্বর বুথে উত্তেজনা ছড়ায় বুধবার দুপুরে। অভিযোগ, মুসলিম সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধ ভোটার লুঙ্গি পড়ে ভোট দিতে এলে সিআরপিএফ জওয়ানেরা তাঁকে ভোট দিতে বাধা দেয়। এরপর সেই ভোটার বাড়ি থেকে প্যান্ট পড়ে ভোট দিতে আসবেন বলে মনস্থির করেন। এই ঘটনা জানতে পেরেই স্থানীয় এক নেতৃত্ব সিআরপিএফ জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলতে এলে সিআরপিএফ জওয়ানরা তৃণমূল নেতা আব্দুল রউফ মন্ডলকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে আসে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ। পরবর্তীতে তিনি অবশ্য ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরেন। এই নিয়েই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
গাইঘাটা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাস, “আমাদের পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ ভোটাররাই বাঙালি, বাংলায় কথা বলেন। কিন্তু দেখলাম কেন্দ্রীয় বাহিনী এমনকি প্রিসাইডিং অফিসারও হিন্দিতে কথা বলছেন। আজ ভোটদানের সময় বেড়গুম-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে যে ঘটনা ঘটেছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক। কে কি পড়ে ভোট দিতে আসবেন তা কি নির্বাচন কমিশন বলে দেবে! আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি, নিন্দা জানাচ্ছি।” নরোত্তম আরও জানান, দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে আনুমানিক ৪২ শতাংশ। মোটের উপর ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ।
যাঁকে পোশাক বদলাতে হল, সেই বৃদ্ধ বলেন, “কোন জওয়ান বয়সে প্যান্ট পরেছি আর প্যান্ট থাকে। নাতিদের প্যান্ট পরে যাওয়ার পরে ভোট দিতে দিল।”
ভিভিপ্যাট, ক্যামেরা বিকল হওয়ায় গাইঘাটা বিধানসভার বিভিন্ন বুথে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকে ভোটগ্রহণ। ধর্মপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পর এবার সুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচপোতা আচারিয়াপাড়ার ৯৬ নম্বর বুথে ভিভিপ্যাট খারাপ থাকার দরুণ প্রায় ৪৫ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পুনরায় ভোটগ্রহণ চালু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা প্রিজাইডিং অফিসারকে জানানোর পরে তিনি সেক্টর অফিসারকে জানান। ঘটনাটির পর নতুন ভিভিপ্যাট বসিয়ে ভোট চালু করা হয়। এরফলে এখন লাইন রয়েছে দীর্ঘ। লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মহিলা ও বয়স্ক পুরুষেরা। জানা যায়, ৩৪১টি ভোট পড়ার পরেই ধরা পড়ে ভিভিপ্যাট খারাপ। এরপরেই বদলে দেওয়া হয় ভিভিপ্যাট।
গোবরডাঙা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২৫৩ নম্বর বুথে ক্যামেরা খারাপ থাকায় দু’ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ভোট গ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এরপরে সেক্টর অফিস থেকে লোক এসে ক্যামেরা সারিয়ে ভোটগ্রহণ পুনরায় চালু করা হয়। যার ফলে ভোটাররা দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন থাকেন। এখানে মোট তিনটে বুথ ২৫২, ২৫৩ এবং ২৫৪ নং-এ বুথে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে আনুমানিক ৬২ শতাংশ। মোটের উপর ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ। এই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি বাসুদেব কুণ্ডুর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভোট করতে এসেছে নাকি অন্য দলের হয়ে ভোট লুটের খেলায় নেমেছে!
















