আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটপ্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নামলেন রাস্তায়। ধামসা মাদলের তালে জনজাতি মহিলাদের সঙ্গে পায়ে পা মেলালেন তৃণমুল সুপ্রিমো। বিধানসভা ভোটের প্রচারে ডুয়ার্সে এসে একেবারে অন্য মেজাজে তিনি। জলপাইগুড়ি জেলার মেটেলি ব্লকের চালসায় পৌঁছেই তিনি রাস্তায় হাঁটলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে নাচলেন, নিজেই হাতে তুলে নিলেন মাদল, বাজালেনও।

এদিন হেলিকপ্টারে মমতা পৌঁছন মেটেলি। সেখানে নামার পর থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মহিলাদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুললেন তিনি। ছোট ছোট বাচ্চাদের কোলে তুলে আদর করতেও দেখা গেল তাঁকে। উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় গোটা ডুয়ার্স এলাকা। ডুয়ার্সের মাটিয়ালি ব্লকের চালসা হেলিপ্যাডে নামার পর সড়কপথে তিনি রওনা দেন মঙ্গলবাড়ি বস্তির দিকে। সেখানে সেন্ট লাকি ক্যাথলিক চার্চের জ্যোতি আশ্রমে পৌঁছে স্থানীয় ফাদার ও সিস্টারদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন তিনি।

তবে, এদিন মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর রাজনৈতিক ভাবে জনসংযোগের উদাহরণ হিসেবে ফুটে উঠল। ভোট ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম ডুয়ার্স সফর। ডুয়ার্স জুড়ে তাই এখন নির্বাচনী উত্তেজনার পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রীর এই ভিন্ন মেজাজই হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহলের চর্চা।

মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে আসার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন মমতা। কেরলে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির লোগোর বিষয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির সিম্বল রয়েছে। কমিশনের লেটারহেডে রয়েছে বিজেপির স্ট্যাম্প।’নিজের কথার স্বপক্ষে একটি কাগজ দেখিয়ে প্রমাণও দেন মমতা। তিনি জানান, ‘কমিশন কাদের কথায় চলছে তা বোঝাই যাচ্ছে। সোমবারই ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করেছে। নন্দীগ্রামের বিডিও চলে আসছে ভবানীপুরে।”

উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “ব্যাকডোর দিয়ে খেলছে এই কমিশন। সাহস থাকলে সামনাসামনি খেলুন। লিস্ট বের করতে এত ভয় কেন?বোঝাই যাচ্ছে ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ছে। এটা ক্ল্যারিকাল মিসটেক না ইচ্ছাকৃত তা তালিকা দেখলেই বুঝতে পারব।”