আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের দিনই বিশৃঙ্খলার ছবি ধরা পড়ল কোচবিহার ও মুর্শিদাবাদে। কোচবিহারের মাথাভাঙায় ভোটকর্মীদের জন্য নির্ধারিত পরিবহণের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা এবং শেষমেশ পথ অবরোধে সামিল হন। ঘটনাটি ঘটে মাথাভাঙ্গা-কোচবিহার রাজ্য সড়কের কলেজ মোড় এলাকায়।
জানা গিয়েছে, এদিন সকাল থেকেই ভোট কর্মীরা ডিসি-আরসি (ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার-রিসিভিং সেন্টার) এবং বিভিন্ন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কারও কোচবিহার, কারও দিনহাটা আবার কারও সিতাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, দীর্ঘ দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করলেও তাঁদের জন্য কোনও গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়নি। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন ভোটকর্মীরা। ক্ষোভে তাঁরা কলেজ মোড়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এই অবরোধ চলে, ফলে ওই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাথাভাঙা থানার পুলিশ। আইসি শুভজিৎ ঝা-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোটকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
পুলিশের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। পরে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দ্রুত ভোটকর্মীদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাঁদের নির্ধারিত কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ভোটের আগের দিন এই ঘটনা প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় স্বস্তি মিলেছে।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোট কর্মীরা সঠিক ভাতা পাননি এই অভিযোগ তুলে বুধবার দুপুরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মুর্শিদাবাদের ডোমকল এবং বহরমপুরের ডিসি-আরসি-তে। ডোমকল ডিসি-আরসি-তে নদিয়া জেলা থেকে ডিউটি করতে আসা বেশ কিছু ভোটকর্মী অভিযোগ করেন, মুর্শিদাবাদ জেলার যে সমস্ত ভোটকর্মীরা এই জেলাতেই ডিউটি করছেন তাঁরা প্রাপ্য ভাতা পেয়ে গিয়েছেন। অথচ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আমরা যাঁরা ভোট করতে এসেছেন এখনও সম্পূর্ণ প্রাপ্য ভাতা পাইনি। ভোট কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রিসাইডিং অফিসারের প্রাপ্য ২৬৩০ টাকা এবং বাকি ভোটকর্মীদের তার থেকে কিছু কম টাকা প্রাপ্য। যদিও তাঁদের অনেকেই ১১৭০ বা ১৩৭০ টাকা পেয়েছেন।

মুর্শিদাবাদে বিক্ষোভ ভোটকর্মীদের। নিজস্ব চিত্র।
নদিয়া থেকে ডোমকলে ভোট করতে আসা এক ভোটকর্মী বলেন, “আমাদের দু'টি জেলায় ভোটের ডিউটি করতে হচ্ছে। আমাদের অ্যকাউন্টে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা ডিসি-আরসি-তে দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। আজ সকালে প্রায় ৪০০ জন ভোট কর্মীকে সেই টাকা দেওয়ার পর বাকিদের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই টাকা না পেলে আমরা ভোট করতে যাব না।”
ডিসি-আরসি-তে উত্তেজনা ছড়াতেই সেখানে পৌঁছান ডোমকলের মহকুমাশাসক শুভঙ্কর বালা এবং এসডিপিও শুভম বাজাজ। তাঁরা ভোটকর্মীদেরকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
প্রায় একই রকমের ঘটনা ঘটেছে বহরমপুরের ডিসি-আরসি-তেও। সেখানেও ভোট কর্মীরা অভিযোগ করেছেন তাঁরা প্রাপ্য টাকা পাচ্ছেন না। ডিউটি করতে যাওয়ার আগে প্রাপ্য টাকা না পেলে ভোট করতে যাবেন না বলেও অনেক ভোটকর্মী জানিয়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তাঁরা বহরমপুরের ডিসি-আরসি-র একটি দরজা বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এলাকায় পৌঁছেছেন।
ভোটকর্মীদের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্যের শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ (ভোটকর্মী শাখা)-এর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার নিয়মশৃঙ্খলা নিয়ে বলা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনই দায়িত্বহীনভাবে কাজ করছে। তার প্রভাব পড়ছে ভোটকর্মীদের উপর। এই নিয়েই আমরা অভিযোগ জানাচ্ছি। নির্বাচন কমিশনেও বারবার জানিয়েছি এবং দ্বিতীয় দফার ভোটে যাতে কোনও রকম ভাবে অনিয়ম না হয় সেই অনুরোধ কমিশনের কাছে জানাচ্ছি।















