মিল্টন সেন, হুগলি: একনজরে দেখে বোঝার উপায় নেই, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র নাকি বিয়েবাড়ি। ভোট দিতে এসে অবাক অনেকেই। খুশি ভোটাররাও। ভোটকেন্দ্রে রীতিমতো বিয়েবাড়ির মতো আয়োজন।

 

ভোটগ্রহণ চলছে নাকি অনুষ্ঠান চলছে বোঝাই মুশকিল। ফুল দিয়ে সাজানো গেট। সকাল থেকে মাইকে বাজছে সানাইয়ের সুর। ভোটকেন্দ্রের গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলেই মিলছে কফি, লস্যি। ভোটকেন্দ্রের এই অভিনব উদ্দ্যোগ দেখে খুশি ভোটারা। 

 

ধনিয়াখালি বিধানসভার অনন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩১ নং বুথকে সাজানো হয়েছে ঠিক বিয়েবাড়ির আদলে। ভোটারদের অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে গোলাপ ফুল দিয়ে। ভিতরে প্রবেশ করে ভোট দেওয়ার পর ভোটারদের দেওয়া হচ্ছে কফি এবং লস্যি। যা ঘিরে ভোট দিতে এসে খুশি ভোটাররা 

 

হুগলিতেই আরামবাগে সৌজন্যের রাজনীতি চোখে পড়ল সকলেল। বুথ পরিদর্শনে এসে একে-অপরকে জড়িয়ে ধরলেন সিপিএম-তৃণমূল প্রার্থী। যা দেখে অবাক ভোটাররা। 

 

জানা গেছে, ভোটের দিন দু’জনের দেখা হতেই কুশল বিনিময় করেছেন আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগ ও সিপিএম প্রার্থী বিথীকা পণ্ডিত। এদিন আরামবাগের সালেপুর-২ পঞ্চায়েতের ২১৫, ২১৬ ও ২১৭ নম্বর বুথে যান। সেখানে দু'জনে মুখোমুখি হতেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। দুই প্রার্থীর কথায়, "আমরা মানুষ। মানবিকতা চলে যায়নি। ভোট সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ভোট হোক এটাই চাই।" 

 

হুগলি চাঁপদানী বিধানসভা মূলত জুটমিল এলাকা। প্রত্যেক নির্বাচনে সামিল থেকেছে এই শ্রমিক মহল্লা। এই নির্বাচনেই প্রথম, তাঁদের ভোটাধিকার নেই। একটা সময় যাঁরা রুজি রুটির টানে গঙ্গা পারে চলে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দক্ষিণ ভারত থেকে অনেকেই। হুগলির চাঁপদানী এলাকায় রয়েছে একাধিক চটকল। সেখানেই রয়েছেন তাঁরা, রয়েছে তাঁদের পরিবার।

 

আগে একাধিক নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এবার নির্বাচন তাঁদের কাছে অন্যরকম। কোথাও ছেলে ভোট দিতে পারলেও মা বাবা পারলেন না। আবার বাবা ভোট দিয়েছেন অথচ ছেলের নাম নেই। এরকম বহু মানুষের নাম বাদ গেছে এসআইআর-এ। রাজ্যে ২৭ লক্ষ ডিলিটেড ভোটারের মধ্যে তাঁরাও আছেন। যেখানে তাঁরা থাকেন, যেখানে তাঁদের রুজিরুটি অথচ সেখানেই সরকারের তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারলেন না। তাই মন খারাপ। 

ছবি পার্থ রাহা।