আজকাল ওয়েবডেস্ক: তখন দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের কিছুক্ষণ পেরিয়েছে। দেখা গেল, রীতি ভেঙেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন খোদ তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জি। কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। এরপরই দেখা যায়, মিত্র ইন্সটিটিউশনে ভোট দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদেরও নিশানায় নির্বাচন কমিশন। 

ভোট দিয়ে বেরিয়েই অভিষেক বলেন, "কেন্দ্রীয় বাহিনী এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছে। হাই কোর্টের নির্দেশও মানছে না। পুলিশ পর্যবেক্ষকরা মানুষকে ধমকাচ্ছেন, চমকাচ্ছেন। এসব করে লাভ নেই। মুখ থুবড়ে পড়বে (বিজেপি)। প্রথম দফায় দফারফা হয়ে গিয়েছে (বিজেপির)।"

পাশাপাশি বাংলার ভোটারদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, "মানুষের ওপর আমার আস্থা আছে। বাংলার মানুষকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তাতে ৪ঠা মে বিজেপির আসনসংখ্যা ৫০-এর নীচে নেমে আসবে।"

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের শুরুতেই উত্তেজনা ছড়ায় ভবানীপুরে। চারজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না, এই বলে পুলিশের তরফে কার্যত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাই কার্তিক ব্যানার্জিকে। এদিন সকালে এলাকায় কয়েকজনকে নিয়ে বসেছিলেন কার্তিক ব্যানার্জি। সেইসময়েই সেখানে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশের একটি দল। সরাসরি হুঁশিয়ারি দেয় কার্তিক বাবুকে। পাল্টা কার্তিক ব্যানার্জি বলেন, "কমিশন পক্ষপাতিত্ব করছে। বিজেপি পক্ষ হয়ে সাধারণ ভোটারদের চমকাচ্ছে।"

বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৯৩.১৯ শতাংশ, যা আদতে জাতীয় রেকর্ড। কিন্তু আজ দ্বিতীয় দফায় সকাল থেকে কলকাতার বুথগুলোর ছবি দেখে মনে হচ্ছে, সেই রেকর্ডও বোধহয় নিরাপদ নয়। যে কলকাতা সাধারণত ভোটের দিন একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে, সেই তিলোত্তমা আজ সাতসকাল থেকেই বুথের লাইনে সার দিয়ে দাঁড়িয়েছে। খাস কলকাতায় এবার মেজাজটা ঠিক ‘ভোট দেওয়া’ নয়, বরং যেন ‘গণতন্ত্রের উৎসবে’ শামিল হওয়ার।