আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের আগেই উত্তাল পরিস্থিতি। প্রথম দফার ভোট মোটামুটি নির্বিঘ্নে ঘটলেও, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে, রাজ্যের জায়গায় জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছড়িয়েছে। নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। সোমবার এই ঘটনায় উভয় পক্ষেরই একাধিক কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নাদনঘাট থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
জানা গিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিজেপির একটি মিছিল সমুদ্রগড়ের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সময় নশরতপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসের সামনে থেকে কয়েকজন কর্মী জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন এবং বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়া হয়।
এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। ঘটনায় তৃণমূলের অমল হালদার ও সানশা আলি শেখ আহত হয়ে কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপির কমল দাস ও সৌভিক পানও আহত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের দলের কর্মীরা পার্টি অফিসে বসে থাকাকালীন হঠাৎই বিজেপি কর্মীরা আক্রমণ চালায়। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, তারা মাত্র ১০-১২ জন ছিল, কিন্তু তৃণমূলের প্রায় হাজারখানেক কর্মী তাদের ওপর চড়াও হয়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে, আজই বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে আরামবাগে। অভিষেকের সভায় যাচ্ছিলেন তৃণমূল সাংসদ। মাঝরাস্তায় হামলা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের গাড়িতে। হাসপাতালে ভর্তি আরামবাগের মিতালী বাগ। মিতালীর অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে। অভিষেক তাঁর সঙ্গে দেখা করেই সভা শুরু করেন। সভা থেকে তিনি যে বড় বার্তা দেবেন এই প্রসঙ্গে, স্পষ্ট ছিল তা। এদিন অভিষেক বললেন, 'খেলা যখন আজ ওরা শুরু করেছে মিতালীর উপর আক্রমণ করে, শেষটা আমি করব চার তারিখ, কথা দিলাম।'
অভিষেক আরও বলেন, 'তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাচের টুকরো ঢুকে, বিভিন্নভাবে হাতে, পায়ে কোমরে চোট লেগেছে।' এদিন অভিষেক বলেন, 'আজ সিপিএম-এর হার্মাদগুলো জামা পাল্টে, জার্সি পাল্টে, কাস্তে হাতুড়ি তারা ছেড়ে দিয়ে পদ্মফুলের আশ্রয়ে রয়েছে। সিপিএম-এর হার্মার বিজেপির জল্লাদ হয়েছে।'
সঙ্গেই তিনি মনে করিয়ে দেন, যারা ভাবছে মিতালীর উপর কারা চড়াও হয়েছে আমরা জানি না, ঠিক তার পরেই নিজের ফোন থেকে নাম পড়ে শোনান। জানান, অল্প সময়েই তিনি প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়েছেন, কারা এই কাজ করেছে। সঙ্গেই বলেন, 'আমরা গতবারও আরামবাগ হেরেছিলাম, পুরশুড়া হেরেছিলাম, গোঘাট হেরেছিলাম, খানাকুল হেরেছিলাম। কিন্তু উদারতায় পার পেয়ে গিয়েছিলেন, এবার আমি নিজে দায়িত্বে থাকব। চার তারিখ ১২টার পরে, কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা, আর কার দিল্লির বাবা কাকে বাঁচাতে আসে, আমি চার তারিখ দেখব।'















