আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালদহের ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা। দফায় দফায় এলাকা অশান্ত হতেই রেশ ছড়িয়েছে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিতে মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে বড় বার্তা দিলেন মমতা। একদিকে আর্জি জানালেন শান্ত থাকার, অন্যদিকে দিলেন আশ্বাস। বললেন, ভরসা রাখতে তাঁর উপরে। একইসঙ্গে বোঝালেন, এই ঘটনায় কোনও হাত নেই তাঁর, নেই কোনও প্রশাসনিক ক্ষমতা। 

 

মালদহের ঘটনায় রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর, মালদহ পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদহের ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে জানিয়েছে। 

 

মমতা ব্যানার্জি ঘটনা প্রসঙ্গেই প্রথমেই এদিন মনে করালেন, 'আপনারা জানেন এখন প্রশাসনিক ক্ষমতা আমার হাতে নেই। আইনশৃঙ্খলার পুরোটাই আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে।' সঙ্গেই বিজেপি কমিশনকে একযোগে বিঁধে মমতা বললেন, 'ওরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায় চলে। আমার কথায় চলে না।' শুধু তাই নয়, গোটা ঘটনায় মমতা বোঝালেন আরও একটি বিষয়। বোঝালেন, এই ঘটনায় যাঁদের শো-কজ করা হয়েছে, তাঁদের নতুন করে ভোটের মুখে আনা হয়েছে বাংলায়। বললেন, 'মুখ্যসচিব, ডিজি, স্বরাষ্ট্রসচিব, সিপি সব বদল হয়েছে, আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ইলেকশন কমিশন এখানে সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন চালাচ্ছে।' নতুন মুখ্যসচিব এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, এই মালদহের ঘটনা প্রশাসনিকভাবে তাঁকে জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। 

 

ভোটমুখী বাংলায় দফায় দফায় পারদ চড়ছে এসআইআর নিয়ে। এর আগেই মমতা খোদ টানা ধরনা দিয়েছেন।  সাগরদীঘিতে দাঁড়িয়ে মমতা বললেন, 'লড়াই আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে করতে হবে।' একইসঙ্গে মমতার আর্জি, 'যদি আমাকে বিশ্বাস করেন, দয়া করে কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। কোনও উত্তেজনায় পা দেবেন না।' মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে মমতা বললেন, 'রক্ষা করুন বাংলাকে।' 

 

মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বললেন, নির্বাচন কমিশন আইন শৃঙ্খলা  বজায় রাখতে ব্যর্থ। বললেন, 'এটা কমিশনের দোষ। কারণ, তাঁরা নিজেদের লোক বসিয়ে কন্ট্রোল করতে পারেনি, জাজেদের সুরক্ষা দিতে পারেনি। আমি নিন্দা করি।' সুর চড়িয়ে বললেন, পরিকল্পনা নির্বাচন বাতিল করা। 

 

মালদহের ঘটনায়, মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে মমতা বললেন, বদনাম হয়েছে রাজ্যের। বললেন, 'মালদহে যাঁরা করছেন তাঁদের কাছে অনুরোধ করব, দয়া করে শান্ত হোন।' সতর্ক করলেন, কারও কথায় প্ররোচনায় পা দিয়ে এমন কিছু না করতে, যাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত  করতে না পারে। বলেন, 'আপনাদের ন্যায্য ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেবেন না। লড়াইয়ের রাস্তাটা বন্ধ করে দেবেন না। রাজ্যের বদনাম হয়েছে। নতুন মুখ্যসচিব সামলাতে পারেননি। আপনারা চান আমি অপমানিত হই?' 

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, একদিকে যখন নতুন রাজ্যপাল থেকে নতুন মুখ্যসচিব মমতার বক্তব্যে, তখনই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলার নয়া রাজ্যপাল।