আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারবার বলেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের নাম বাদ যেতে দেবেন না। লড়াই চলবে মানুষের স্বার্থে। বৃহস্পতিবার বিচারাধীন ভোটারদের নিয়ে সুপ্রিম রায় সামনে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি বললেন, 'আজকে আমার থেকে খুশি আর কেউ নয়।' সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়েছে, ২৩ এপ্রিল অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত নাম তোলার সময় পাবেন ভোটাররা। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে ট্রাইব্যুনালের ওপর। ট্রাইব্যুনাল ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাদের নামে ছাড়পত্র দেবে তারাই একমাত্র নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যাদের নামে ছাড়পত্র দেবে তাঁরা দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। তবে ট্রাইব্যুনালে যাদের নাম বাদ যাবে তারা এবারের ভোটে অংশ নিতে পারবেন না।

জানা গিয়েছে, ভোটের আগে ছাড়পত্র পাওয়া বিচারাধীনদের নাম ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৪ এপ্রিল।

সুপ্রিম রায় সামনে আসতেই মমতা ব্যানার্জির উচ্ছ্বাস সামনে এসেছে।এদিন তিনি বলেন, আমি দিনহাটা থেকে উঠেই হেলিকপ্টারে সুখবর পেলাম। বারবার করে সকলকে বলছিলাম ধৈর্য রাখুন। আবেদন করুন ট্রাইবুন্যালে। আজ নয় কাল, আপনারা নিশ্চয় পাবেন। আজ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যাঁরা আবেদন করেছেন ট্রাইবুন্যালে, প্রথম দফার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা ওরা প্রকাশ করবে ২১ তারিখে, ওটা পেয়ে গেলেই আমাদের নেতাদের বলব, তাঁরা যেন রাতের মধ্যেই ভোটার তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়, যাতে ওরা ভোট দিতে পারে, যাদের নাম বাদ দিয়েছিল।'

এদিন মমতা বলেন, 'আই  অ্যাম সো হ্যাপি।' তিনি নিজে মামলা করেছিলেন সেকথাও বলেন। বলেন, 'আজকে আমার থেকে খুশি আর কেউ নয়।' 

 

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এদিন রাজ্যের শাসক দলের তরফে জানানো হয়, আজ সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে তৃণমূলের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেই দলে থাকবেন, অরূপ বিশ্বাস, নাদিমুল হক, শশী পাঁজা এবং সুদর্শনা মুখার্জি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে এটাই নিয়ম। তবে এবার ১৪২ ধারা প্রয়োগ করল নির্বাচন কমিশন।

শীর্ষ আদালত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করার ফলে, যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে ছাড়পত্র পাবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তবে যাঁদের নাম বাদ যাবে তাঁরা এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। বিশেষ করে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিলের শুনানির জন্য একটি আরও পোক্ত আপিল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বিচারপতি বাগচী উল্লেখ করেন, বিহারের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে অন্যভাবে এসআইআর করেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলার ক্ষেত্রে কমিশন অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নামে একটি নতুন ক্যাটাগরি চালু করেছে।