আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার দুটি জনসভা ছিল মমতা ব্যানার্জির। সভা শেষ করেই, বিমানে ফেরার কথা কলকাতায়। ৩টা ৩৯ নাগাদ অন্ডাল বিমান বন্দর থেকে উড়ান শুরু করে তাঁর বিমান। কিন্তু অবতরণের সময় বাধ সাধে আবহাওয়া। ঘণ্টাখানেক মাঝ আকাশে চক্কর কাটার পর, অবতরণ করে বিমান। শুক্রবার সেই অন্ডাল বিমানবন্দরের দিকেই রওনা দিলেন মমতা ব্যানার্জি। যাওয়ার আগে, বৃহস্পতিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে জানালেন, 'দেখুন পাইলট খুব ভাল ছিল। তাঁরা সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন। আমাদের জীবন বাঁচিয়েছেন।'

এদিন বিমান বন্দর থেকেই একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। একদিকে এসআইআর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা, অন্যদিকে কড়া বার্তা দিলেন অন্য বিষয়েও। একযোগে বিঁধলেন গেরুয়া শিবির আর কমিশনকে। বললেন, 'ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, রাম নবমীর দিন বলে গেলাম।' 

 

এসআইআর নিয়ে দফায় দফায় শুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন এসআইআর ইস্যুতে মমতা বলেন, 'সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল তালিকা বের করতে। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা আমরা এখনও পাইনি। পাবলিক ডোমেনে আসেনি। এর থেকে বেশি গণতন্ত্র হত্যা, গণতন্ত্রের জন্য দুর্ভাগ্য হতে পারেনি। '

তিনি আরও বলেন, 'আমি শুনেছি সুতির এক ব্লকে, লোক আছে ৫০০, বাদ  ৪০০।' মমতা বললেন, 'এসব কে করেছে, কারা করেছে? একদিন না একদিন মানুষ কৈফিয়ত চাইবেই। বুকের পাটা থাকলে বলব তালিকা বের করুন আগে। মানুষকে জানতে দিন কার নাম আছে, কার নেই। যাঁর নেই, জেলায় জেলায় ট্রাইবুন্যাল করে তাঁদের নাম তোলার ব্যবস্থা করে দিন। আমরা বিনা পয়সায়, আইনজীবী দিয়ে, নাম তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারও নেই। যা চলছে তা সুপার হিটলারকেও ছাড়িয়ে যাবে।' 

 

ক্ষুব্ধ মমতা বললেন, 'মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট করবেন? ভ্যানিশ কুমারের নামে ওয়াশিং মেশিন চালাবেন আর সবকিছু মানুষ সহ্য করবে? ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, রাম নবমীর দিন বলে গেলাম।' 

শুক্রবার কেন্দ্র, পেট্রল, ডিজেলের উপর ধার্য অতিরিক্ত আবগারী শুল্ক কমিয়েছে। মমতা বললেন, 'আগে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম কমুক। এগুলোর দাম আগে থেকেই বাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। এটা অনেকটা ১,০০০ টাকা দাম বাড়িয়ে শাড়িতে ৪০০ টাকা ছাড় দেওয়ার মতো। বাস্তবে এক্সসাইজ ডিউটি কত, আর তা কমালে আসলে দামের উপর কতটা প্রভাব পড়বে? আমি চাই না মানুষ কষ্ট পাক।' 

 

বাংলায় উৎপাদিত গ্যাস নিয়েও বড় বার্তা দেন মমতা এদিন। বলেন, 'LPG-র ক্ষেত্রে কী হল? মানুষকে তো আগে রান্না করতে হবে। পেট্রোল এখানে ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে, গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে। আমি চাই না হলদিয়ায় উৎপাদিত গ্যাস বাংলার বাইরে চলে যাক। নির্বাচনের ডিউটির জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ বাংলায় আসবেন। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, তাঁদের রান্নার গ্যাস সরবরাহ করতে গিয়ে এখানকার মানুষ যেন সমস্যায় না পড়েন। আমরা কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়িয়েছি, যা রেশনের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এটি সেই পরিবারগুলোকে সাহায্য করবে, যারা এখনও উনুনে রান্না করেন, যদিও বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করেন।'