আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দূর হল রাজ্যের শ্রম দপ্তরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী তথা জঙ্গিপুরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন এবং সাগরদিঘির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের।
সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনার তরফ থেকে ভোটার তালিকার যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বায়রন বিশ্বাস এবং জাকির হোসেন-দু'জনেরই নাম রয়েছে বলে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল তাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের তিন বিদায়ী বিধায়ক-জাকির হোসেন , বায়রন বিশ্বাস এবং জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাকের নাম ছিল না। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এবছর তৃণমূল কংগ্রেস জলঙ্গির বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রজ্জাককে টিকিট দেয়নি। কিন্তু জাকির হোসেন এবং বায়রন বিশ্বাস নিজেদের পুরনো দুই বিধানসভা কেন্দ্র যথাক্রমে -জঙ্গিপুর এবং সাগরদিঘি থেকে শাসক দলের টিকিটেই মনোনয়ন পেয়েছেন।
নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে তৃণমূল কংগ্রেসের এই দুই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের লড়ার ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হত।
তৃণমূল সূত্রের খবর, বাবার পদবীর সঙ্গে জাকির হোসেনের পদবীর মিল না থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম যে ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছিল তাতে 'লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি'র কারনে তাঁর নাম বাদ যায়। অন্যদিকে বায়রন বিশ্বাসের বাবা বাবর আলি বিশ্বাসের একাধিক সন্তান থাকার জন্য 'লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি'র যুক্তিতে তাঁর নাম প্রথম ভোটার তালিকায় ছিল না।
প্রথম ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর তৃণমূলের দুই বিধায়কের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যদিও প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরে ইতিমধ্যেই জাকির হোসেন এবং বায়রন বিশ্বাস নিজেদের বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে কেবলমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলায় ১১ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় ছিল।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনার তরফ থেকে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে কত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তা এখনও সম্পূর্ণ জানা যায়নি। তালিকা প্রকাশের পর প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বেশিরভাগ বুথের অতিরিক্ত তালিকা ডাউনলোড করা যাচ্ছে না। এমনকি 'এপিক' নম্বর দিয়েও অনেক ভোটার নাম দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাগরদিঘির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রের প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস বলেন,"বিজেপি চক্রান্ত করে এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমার নামও প্রথম ভোটার তালিকায় ছিল না। তবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় আমার নাম ভোটার তালিকায় উঠেছে।"
তিনি অভিযোগ করেন," অন্য রাজ্য এসআইআর হয়েছে কিন্তু কোথাও এত জটিলতা তৈরি হয়নি। কার আদেশে, কীভাবে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হচ্ছে তা ভোটাররা খুবই ভালো করে জানেন। জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে 'সাম-দান-দণ্ড-ভেদ' নীতি ব্যবহার করে ভোটারদের মধ্যে বিভাজন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি তা সফল হতে দেবেন না।। নির্বাচনী প্রচারে আমি যেভাবে সাড়া পাচ্ছি তাতে নিশ্চিত বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আগের থেকেও বেশি আসনে জিতে রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে।"
অন্যদিকে রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা রঘুনাথগঞ্জ কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন ,"গতকাল রাতে যে 'সাপ্লিমেন্টারি' তালিকা প্রকাশ হয়েছে তাতে আমার বিধানসভা কেন্দ্রের কোনও কোনও বুথে 'বিচারাধীন' থাকা প্রায় সমস্ত ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটার।"
তিনি অভিযোগ করেন ,"শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার বলেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপিকে ভোট দেয় না। তাই তাঁদের নাম বাদ দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচারকদের হাতে সমস্ত নথি তুলে দেওয়া হচ্ছে না। তার ফলে বিচারকরাও সঠিক বিচার করতে পারছেন না।"
