বিভাস ভট্টাচার্য

শক্তি প্রদর্শন এবং সেইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে বুঝিয়ে দেওয়া 'আমি আছি পাশে'। বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রায় ভবানীপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিং-এ মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গী ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাসবিহারী বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত প্রমুখ। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নিজের কেন্দ্র এই ভবানীপুর। ফলে এটা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না যে এই কেন্দ্র কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কেন্দ্রে এবার বিজেপির প্রার্থী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যিনি এই বছর নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও ভোটের লড়াইতে নেমেছেন। কিন্তু রাজ্য-সহ গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর এই ভবানীপুরের দিকেই। সেখানে যাতে এই কেন্দ্রের নেতা-কর্মীরা কোনোভাবেই 'ঢিলেঢালা' মনোভাব না নিয়ে চলেন তার জন্য বিজেপি সতর্ক নজর রেখে চলেছে। এর পাশাপাশি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের বুঝিয়ে দেওয়া, এই কেন্দ্রে বিজেপি সর্বশক্তি দিয়েই লড়াই করবে। যে কারণেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনটিকে নজরকাড়া করতে বিজেপি চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি। বৃহস্পতিবার ঢাকের সঙ্গে খোল-করতাল বা নাকারা যেমন ছিল তেমনি ছিল শোভাযাত্রাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে অন্যান্য ব্যবস্থা। সকাল থেকেই দলীয় পতাকা হাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিজেপি কর্মীরা হাজরা মোড়ে এসে ভিড় জমান। 

যেহেতু ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনয়ন তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানকার কথাই থাকবে। আর সেই ব্যাখ্যায় শাহ-র মনোভাবে যে বিষয়টি উঠে এসেছে সেটা হল তিনি রাজ্যের অন্যান্য আসন নিয়ে যতটা না উৎসাহী তার চেয়ে ঢের উৎসাহী এই আসনটি নিয়ে। তাঁর কথায়, একটি একটি করে আসন জিতে ১৭০টি আসনে পৌঁছলেও যদি ভবানীপুরের আসনটি জেতা যায় তাহলেই রাজ্যে পরিবর্তন হয়ে যাবে। এই কেন্দ্রে ভোটারদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন, ভবানীপুরে পরিবর্তন করতে হবে কি না? অর্থাৎ বিজেপির এই কেন্দ্রীয় নেতা তাঁর দলীয় কর্মী ও ভোটারদের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দিলেন, এই কেন্দ্রে তাঁরা একেবারে সর্বশক্তি দিয়েই ঝাঁপাবেন। যার নান্দীমুখটা এদিন তিনি এসে করে দিয়ে গেলেন। 

দ্বিতীয় এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কেন্দ্রে প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি অমিত শাহ নিজেই জানিয়ে দিলেন। এদিন শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়েই তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতা নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়াতে চাইলেও তিনিই তাঁকে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দাঁড়াতে বলেছিলেন। আর এই লড়াইয়ে যে তিনি পুরোপুরি শুভেন্দুর পাশে রয়েছেন সেটা এদিন প্রমাণিত হয়েছে তাঁর উপস্থিতির জন্য। তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তিনি এসেছেন তাঁর দলের চার প্রার্থীর মনোনয়নের জন্য এবং বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের জন্য। সেজন্যই শুভেন্দুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেই যান মনোনয়নপত্র জমা দিতে। তাঁর এই উপস্থিতি এদিন দুটো বার্তাই দেয়। প্রথমটি হল এই আসন বিজেপির কাছে পাখির চোখ এবং দ্বিতীয় হল দল-সহ শুভেন্দুকে এটা বুঝিয়ে দেওয়া এই লড়াইয়ে সবদিক থেকেই তিনি শুভেন্দুর পাশে আছেন। এই মনোভাবের আরও একটি বড় কারণ হল, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু ভূমিপুত্র হলেও ভবানীপুর কিন্তু মমতা ব্যানার্জির চেনা মাঠ।

 

&t=13s