আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ২৩৪ নম্বর বামনবাড় বুথে ভোট দিতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। মৃতের নাম নৃপেন্দ্রনাথ দাস (৫৮)। বৃহস্পতিবার তীব্র দাবদাহ আর অসহনীয় রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর আচমকাই অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই বুথ চত্বরে নেমে আসে আতঙ্ক আর কান্নার রোল। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যধিক গরমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শেষপর্যন্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। এরপর অন্যান্য বুথে দ্রুত ত্রিপল টাঙিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে রোদে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা কিছুটা স্বস্তি পান।
প্রশ্ন উঠছে, আবহাওয়া দপ্তর আগেই তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা দিয়েছিল। গত দুদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছিল ভয়াবহ গরমের খবর। তা সত্ত্বেও ভোটারদের জন্য আগে থেকে পর্যাপ্ত ছায়া, জল বা বিশ্রামের ব্যবস্থা কেন করা হল না?
একজন ভোটারের প্রাণ চলে যাওয়ার পরই যখন ব্যবস্থা নেওয়া হল, তখন এলাকাজুড়ে শোনা যাচ্ছে একটাই কথা— “চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।”
এই মৃত্যু রাজনৈতিক হিংসার নয়, কিন্তু এক পরিবারের মাথার উপর থেকে ছাদ সরে যাওয়ার মতোই বেদনাদায়ক। নৃপেন্দ্রনাথবাবুর অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, পরিজন ও সমগ্র এলাকায়। তাঁর ভোট দিতে যাওয়াই হয়ে রইল জীবনের শেষ পথচলা।















