আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজের ব্যবসা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রাখতেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন অধীর চৌধুরী। মানুষের জন্য কাজ করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়, রবিবাসরীয় ভোট প্রচারে বেরিয়ে বহরমপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি এমনই দাবি করলেন।
এর পাশাপাশি বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত সাংসদ অধীর চৌধুরী এখন 'গোরাবাজারের নেতা' হয়ে গিয়েছেন বলেও নাড়ুগোপাল মুখার্জি এদিন দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র জয়ী হলেও তৃণমূল কংগ্রেস দল তৈরী হওয়ার পর প্রথমবার ওই কেন্দ্রে শাসক দলের প্রার্থী হিসেবে নাড়ুগোপাল মুখার্জি দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন। বহরমপুরের গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস নাড়ুগোপাল মুখার্জি এবং বিজেপি বিদায়ী বিধায়ক সুব্রত মৈত্রকে আবার প্রার্থী করলেও কংগ্রেসের তরফ থেকে এখনও তাদের দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে জেলা কংগ্রেস নিশ্চিত করেছে অধীর চৌধুরী বহরমপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে এবার প্রার্থী হবেন।
একদা দেশের লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরীর ১৯৯১ সালে প্রথমবার নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি দ্বিতীয়বার কংগ্রেসের প্রতীকে লড়াই করে ওই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। তবে তার তিন বছরের মধ্যে ১৯৯৯ সালে তিনি বহরমপুর কেন্দ্র থেকে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজয়ের আগে পর্যন্ত অধীর চৌধুরী বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসেরই সাংসদ ছিলেন।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী মাত্র ২০.৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতীকে নাড়ুগোপাল মুখার্জি পেয়েছিলেন ৩১.৬২ শতাংশ ভোট। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বহরমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে ৪৮.৮৭ শতাংশ ধস নেমেছিল।
কংগ্রেসের সেই 'ক্ষত' যে আজও মেরামত হয়নি রবিবাসরীয় ভোট প্রচারে বার হয়ে সেটাই দাবি করলেন তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জি। তিনি বলেন," বহরমপুরে আর কংগ্রেসের কোনও সংগঠন নেই।গতবারের তুলনায় কংগ্রেসের কিছু ভোট বাড়তে পারে। তবে বহরমপুর কেন্দ্রে অধীর চৌধুরীর জেতার কোনও সম্ভাবনা নেই। গোরাবাজার এলাকার কিছু 'পকেটে' অধীর চৌধুরীরকে আবেগ থেকে এখনও কিছু মানুষ ভোট দেন। কিন্তু সংগঠন না থাকলে ভোটে জেতা সম্ভব নয়। বহরমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেসের কোনও সংগঠনই আর নেই।"
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে অধীর চৌধুরী সম্প্রতি গোরাবাজার এলাকায় নিজের 'পয়া' 'চৌধুরী ভিলা'য় এখন বেশ কিছুটা সময় কাটাচ্ছেন। নিয়মিত সেখানেই তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
নাড়ুগোপাল মুখার্জির দাবি অধীর চৌধুরী এখন 'গোরাবাজার এলাকার নেতা' হয়ে গিয়েছেন। বহরমপুর পুরসভার বাকি ওয়ার্ড এবং বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দৌলতাবাদ, গুরুদাসপুর, হাতিনগর, ভাকুড়ি সহ অন্যান্য অংশে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তিনিই এগিয়ে রয়েছেন।
তৃণমূল প্রার্থী বলেন," বিজেপির হয়ে যারা নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করছেন তারাও তৃণমূলের কাছ থেকে সমস্ত রকমের সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। রাজ্যে যখন তৃণমূল কংগ্রেসই আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে, তাহলে মানুষ কেন বিজেপিকে ভোট দিতে যাবে।"
অধীর চৌধুরীর নাম এআইসিসি-র তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা না হলেও তিনিই যে ওই কেন্দ্রে ফের একবার দাঁড়াবেন সে সম্পর্কে মোটামুটি নিশ্চিত তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জি। তিনি বলেন, "পাঁচবারের কংগ্রেস সাংসদ, দেশের লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা এখন বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে লড়ছেন। এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উন্নতি না অবনতি সে নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। বহু চেষ্টার পরও বিজেপি বা কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেয়নি। এই রাজ্যে কংগ্রেস বা সিপিএম এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। অধীরবাবু ভোটে লড়তে রাজি হয়েছেন কারণ তাঁর রাজনৈতিক খিদে রয়েছে এবং নিজের ব্যবসা ও নিরাপত্তা তাঁকে সুনিশ্চিত রাখতে হবে।"
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অধীর চৌধুরী পরাজিত হলেও তিনি এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন।
নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেন," বহরমপুরের মানুষ খুব ভালো করে জানে অধীর চৌধুরী নিজের ব্যবসা ঠিক রাখার জন্য এবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন। অন্যদিকে বিজেপি হিন্দুত্বের লড়াই লড়ছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস গোটা রাজ্য জুড়ে ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য লড়াই করছে।"
বহরমপুর কেন্দ্রে এবার তাঁর লড়াই যে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গেই হবে তার ঠারেঠোরে স্বীকার করে নিয়েছেন নাড়ুগোপাল মুখার্জি। তিনি বলেন,"পবিত্র ঈদের জন্য শনিবার এবং রবিবার আমরা বহরমপুর শহর এবং সংলগ্ন এলাকায় ভোট প্রচার চালাচ্ছি। সোমবার থেকেই বহরমপুর বিধানসভার অন্তর্গত গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রচার শুরু করা হবে। ২১-এর নির্বাচনের মত ২৬-এর নির্বাচনেও বহরমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী তৃতীয় স্থানে থাকবে।"
&t=1s
