আজকাল ওয়েবডেস্কঃ বুধবার শেষ হল রাজ্যের বিধানসভা ভোট। এক্সিট পোলের পরেই চেনা ছন্দে বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। আগে তিনি বলতেন গুড়-বাতাসা, এখন বলছেন গুড়-মুড়ি! এই পরিবর্তিত সুরেই ফের রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে তাঁর মন্তব্য, ভাষা এবং কটাক্ষ বরাবরই আলাদা মাত্রা যোগ করে বাংলার রাজনীতিতে। এবারের নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হল না।

ভোট পরবর্তী সমীক্ষা প্রকাশের পর তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের ছাপ। শুরুতেই তিনি দাবি করেন, এ ধরনের ভোট তিনি জীবনে দেখেননি। প্রথম দফাতেই তিনি ১২০ আসনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফার পর তাঁর আশা, সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এমনকী, বিজেপি-র অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন  বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক। একইসঙ্গে তাঁর মত, কংগ্রেস কিছু আসন পাবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই  রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অনুব্রত মণ্ডল আরও বলেন, দ্বিতীয় দফার ভোটেও ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে, যা বিরল ঘটনা। তাঁর দাবি, এই ভোটের ফলাফল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই যাবে এবং বিরোধীরা কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার হয়েছে, এমনকী, এক শিশুকে মারা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বাংলার মানুষ ভীত নয়—এই বার্তাও জোর গলায় তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, "বাংলা কখনও ভয় পায় না, বরং স্বাধীনতার ইতিহাস বহন করে।" বিহার বা উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, "বাংলার মানুষ অনেক বেশি সাহসী এবং সচেতন।"


এছাড়াও, নির্বাচনী আবহে সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে এখানে ডিজে নয়, রবীন্দ্রসঙ্গীতই বাজবে। তিনি উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শে গড়া এই বাংলায় সংস্কৃতির মর্যাদা অটুট থাকবে। 

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচন হোক কিংবা পঞ্চায়েত অথবা লোকসভা—প্রতিবারই অনুব্রত মণ্ডলের মুখে নতুন নতুন শব্দবন্ধ শোনা যায়। কখনও গুড় বাতাসা, কখনও ঢাকের চরাম চরাম, আবার কখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে উন্নয়ন। এবছরও তার অন্যথা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের সাঁজোয়া গাড়ি দেখে তিনি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার তত্ত্বের কথা বলেন। এরপর দ্বিতীয় দফা নির্বাচন শেষে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তাঁর কটাক্ষ—গুড়-মুড়ি-লঙ্কা খেয়ে শান্ত হয়ে শুয়ে থাকো। এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে তিনি কার্যত বোঝাতে চেয়েছেন, বিরোধীরা আর ক্ষমতায় আসার মতো অবস্থায় নেই। তাই তাদের এখন খেয়ে শুয়ে থাকাই শ্রেয়। তাঁর ভাষায়, "এতে যেমন পেট ঠান্ডা থাকবে, তেমনই মনও শান্ত থাকবে।" এই মন্তব্য যে এক ধরনের কটাক্ষ, তা বলাই বাহুল্য।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের এই ধরনের মন্তব্য একদিকে যেমন বিতর্ক তৈরি করে, তেমনই তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার খোরাক জোগায়। ভোট-পরবর্তী সমীক্ষার পর তাঁর এই পরিবর্তিত সুর আদৌ বাস্তব ফলাফলে প্রতিফলিত হবে কিনা, এখন সেটাই দেখার।