আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মুখে পারদ চড়ছে বাংলায়। ভোটমুখী বাংলায় আজ সকালেই পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন বাংলায় পৌঁছেই চার্জশিট প্রকাশ করলেন তিনি। শাসক দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করলেন শমীক ভট্টাচার্য। এই চার্জশিট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলেন অমিত শাহ। 

 

শমীক ভট্টাচার্য এদিন বলেন, "২০১১ সালের পট পরিবর্তনের পর যাঁরা ক্ষমতায় এসেছিলেন, আজ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, নির্বাচনের লড়াই করতে মা মাটি বনাম তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজ পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে একটা চার্জশিট প্রকাশ করলাম।" 

 

এরপরই অমিত শাহ বলেন, "জনতার আওয়াজ বাংলার জনতার সামনে তৃণমূলের শাসনকালে অপশাসনের এই চার্জশিট প্রকাশ করছি। সবাই জানে বাংলায় নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে। বাংলায় সরকার গঠনের জন্য বিজেপি কর্মীরা উৎসাহের সঙ্গে মাঠে আছে। শুভেন্দু, তিনি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে প্রচার করছেন। এই নির্বাচন বাংলার জন্য যেমন প্রয়োজনীয় পাশাপাশি এই নির্বাচন ভারতের ক্ষেত্রেও গুরুত্তপূর্ণ।" 

 

তিনি আরও বলেন, "অনুপ্রবেশ এমন ইস্যু যেটা এই দেশের খুব বড় একটা সমস্যা। এ রাজ্যেও সেই সমস্যা আছে। অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। তাই পশ্চিমবঙ্গের ভোট গোটা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সুরক্ষা জড়িত রয়েছে এর সঙ্গে। তৃণমূলের যে অরাজকতা এবং অপশাসন তার কী সমাধান, তা-ও বলব। আগে চার্জশিট প্রকাশ করা হল। এর পরে আমরা জানাব যে, আমরা এর অবসানের জন‍্য কী করব।" 

 

শাহের আরও বক্তব্য, "বিগত ১৫ বছর ধরে ভয়ের রাজনীতি চলছে, বিভেদের রাজনীতি চলছে। এখন নতুন থিয়োরি মমতা নিয়েছেন। জনকল্যাণ কাজই নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়, কিন্তু এখানে ভয়, অরাজকতা এসব দিয়ে নির্বাচন হয়। সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়ে যারা বাংলার মানুষকে শোষণ করে। সিন্ডিকেট মানুষকে সমস্যায় ফেলছে, শেষ করে দিচ্ছে। সিন্ডিকেট রাজের কোনও অ্যাকশন নেই।" 

তিনি আরও বলেন, "২০১৪ সালে আমাদের ১৭ পার্সেন্ট ছিল ভোট। ২১ সালে ১০ থেকে ৩৪ পার্সেন্ট ভোট শেয়ার হয়। ৩৪ বছর ধরে কমিউনিস্ট যারা শাসন করল, তারা এখন শূন্য আসন।" এরপরই তাঁর দাবি, "বাংলার মানুষ ঠিক করে নিয়েছে এবার বিজেপি সরকার তারা আনবে। এবার নির্বাচন ভয় থেকে মুক্তির নির্বাচন। অনুপ্রবেশের ভয় থেকে মুক্তির নির্বাচন। বেকারত্বের ভয় থেকে মুক্তির নির্বাচন। শান্তির গ্যারান্টি, সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে, আবাস সঠিক ভাবে যাতে পায়, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ভরসার নির্বাচন। ভয় দূর করে ভরসার নির্বাচন।মহিলাদের সুরক্ষার জন্য এই নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গে এক সরকার আনতে হবে। অনেক বছর পর বাংলা বিহার ওড়িশায় একই দলের সরকার হতে চলেছে।" 

শাহের কথায়, "এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, মমতাজির সরকার কি ঘুমোচ্ছে? আবার বলেন বিএসএফ কী করছে? বিএসএফ তখনই কিছু করতে পারবে, যখন আপনি সীমান্তে জায়গা দেবেন। ফেন্সিং জায়গা দিলে তো হবে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত ঘেরার জন্য প্রয়োজনীয় জমি এ রাজ্যের বিজেপি সরকার কেন্দ্রকে দেবে। মমতা আগে ভিকটিম কার্ড খেলেছিলেন। কখনও পা ভেঙে, কখনও নির্বাচন কমিশনকে গালি দিয়ে। এখন মানুষ বুঝে গেছে। কাউকে গালি দেওয়া বাংলার সংস্কৃতি নয়। অন্য রাজ্যে বিকাশ হয়েছে। এবার বাংলায় হবে বিকাশ।" 

তিনি বলেন, "চার্জশিটে অনুপ্রবেশ ইস্যু আছে। অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করে এখন ছেলেমেয়েদের চাকরি খেয়ে নিচ্ছে। বিএসএফ কী করবে, জমি দিচ্ছে না। আমাদের কোনও পলিটিক্যাল ইগো নেই। ৬ মে বিজেপির সরকার হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা জমি দিয়ে বর্ডার সিল করব। ওবিসি-তে বেশির ভাগ মুসলিম ঢুকিয়েছে। ধর্ম দিয়ে কী ওবিসি হবে নাকি! মহিলা মুখ্যমন্ত্রী আর তার আমলেই সব থেকে মহিলারা লাঞ্ছিত। দুর্নীতি এখানে বড় ইস্যু। এখানে শিক্ষকদের চাকরি তে দুর্নীতি, মিড ডে মিলে দুর্নীতি, আমফানে ত্রাণ দিতে গিয়ে দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি। যাঁরা দুর্নীতি করলেন তাঁদের নির্বাচনে টিকিট দিয়েছেন মমতা। মানুষ এর জবাব দেবেন। আমাদের বিরোধী দলনেতা, কর্মী, নেতাদের ওপর হামলা হচ্ছে রাজ্যে। ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে পাঠ্য বইতে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দেওয়া হয়। এ বাংলা কবিগুরুর বাংলা নয়। মমতা যদি শিল্পের চিন্তা করতেন, তাহলে এত শিল্প বাংলা ছেড়ে যেত না। মা মাটি মানুষ-এর স্লোগান দিয়েছিল মমতা। এখন মানুষ বদলাতে চাইছে।" 

অমিত শাহের আরও দাবি, "বাংলায় সব আধিকারিক তৃণমূলের ক্যাডার। তাই নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দিচ্ছে। ক্ষমতায় এলে আমরা দেশের বিকশিত রাজ্যগুলির মধ্যে একটি রাজ্য করব। আগে বাংলা শিল্পের হাব ছিল, যেটা এখন নষ্ট। সেই গৌরবকে আমরা ফেরাব। এবারে অনেক কম হিংসা হয়েছে রাম নবমীতে। কারণ নির্বাচন কমিশন মমতার অনেক অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে বলে। উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা প্ল্যান রয়েছে। সংকল্প পত্রে বিস্তারিত থাকবে।"