মিল্টন সেন, হুগলি: অন্ধকারে নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য হুগলির হরিপালে। আটক জওয়ান। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হরিপাল থানার অন্তর্গত বন্দিপুর এলাকায়।

সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন এক নাবালিকা ছাত্রী। অভিযোগ, তখনই তাকে টেনে নিয়ে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় হরিপালে। থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা।হরিপালের তৃণমূল প্রার্থী করবী মান্নার নেতৃত্বে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ। 

জানা গেছে, হরিপালের বন্দিপুর এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকা। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও ছিল তার টিউশন ক্লাস। ক্লাস শেষ করে সাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিল ক্লাস সেভেনের ওই ছাত্রী। অভিযোগ, সেই সময়ই তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান। সাইকেল ফেলে ঘটনাস্থল থেকে কোনওরকমে দৌড়ে পালায় সে। ঘটনার পর গ্রামের মানুষ তৎক্ষণাৎ ওই জওয়ানকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। হরিপাল থানায় রাতভর ওই জওয়ানকে আটক করে রাখা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে থানার গেটের সামনে বসে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা।

এই প্রসঙ্গে হরিপালের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করবী মান্না বলেন, "আমাদের গ্রামের একটি বাচ্চা মেয়ে টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল। বাজারের কাছে এক বিএসএফ জওয়ান তাকে হাত ধরে টানে। তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করে। এটা কাম্য নয়। বিএসএফ এর কাছ থেকে এটা আমরা প্রত্যাশা করি না।" তিনি আরও বলেন, "বাংলা অনেক শান্ত এলাকা। বাংলার মাথার উপরে আছে মমতা বন্দোপাধ্যায়। বাংলায় বাইরে থেকে এসে সিআরপিএফ, বিএসএফ এসে এই অত্যাচার করবে এটা আমরা মানব না।"

সিঙ্গুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেছেন, "এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং দুঃখজনক ঘটনা। এটা এখন আমাদের এখন মা-বোনেদের ইজ্জত রক্ষার লড়াই হয়ে গিয়েছে। আজ সন্ধ্যা বেলা হরিপাল থানার বন্দিপুর গার্লস স্কুলের একটি ছাত্রী বাজারের সামনে দিয়ে টিউশন পড়ে ফিরছিল। তখন তাকে অন্ধকারে টেনে নিয়ে গিয়ে তার হাত ধরে টানাটানি করে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়।"

কার্যত প্রধানমন্ত্রীকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন মন্ত্রী। বলেছেন, "নরেন্দ্র মোদী ভোটের প্রচারে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর লোকেরা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। তাঁরা মা বোনেদেরও ছাড়ছে না। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। আমরা থানায় এসেছিলাম, মেয়েটির পরিবারের লোকজনকে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। আশা রাখি, যিনি ঘটনা ঘটিয়েছেন তাঁর যেন কঠোরতম সাজা হয়।"

বেচারামের সংযোজন, "আমরা চাই এই দপ্তরের যিনি মন্ত্রী অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ  পদত্যাগ করুন। পাশাপাশি, বাংলার মায়েদের বলব, কেন্দ্রীয় বাহিনী যতক্ষন থাকবে ততক্ষণ একটু সাবধানে চলাফেরা করতে।"

শুক্রবারের ঘটনার প্রতিবাদে হরিপালের হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিল। পুলিশের তরফে শুরু করা হয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়া।