আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মমতা ও অভিষেক ব্যানার্জি। দু'জনেই শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে। ২০০-র বেশি আসনে জিতে বাংলার মসনদে প্রত্যাবর্তনের বার্তা দিয়েছেন আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল সুপ্রিমো। 

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী, নিরলস লড়াইয়ের জন্য সমস্ত দলীয় কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভোটে যারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে অত্যাচারিত হয়েছেন তাদের দল পুরস্কৃত করবেন বলেও বার্তা দিয়েছেন। এক্সিটপোলের ভবিষ্যদ্বাণীকেও নস্যাৎ করেছেন নেত্রী। তাঁর দাবি, শেয়ার মার্কেটকে চাঙ্গা করতেই বুথফেরৎ সমীক্ষাগুলোতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। এই সমীক্ষাকে বিজেপির অর্থ বাগাড়ম্বর বলেও তোপ দেগেছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা। তাঁর দাবি, বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে বাংলার নারীসমাজকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা যে গ্রাম বা গলিতেই গিয়েছে, সেখানেই নারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি শিশুরাও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে অভিষেক ব্যানার্জির দাবি- এক্সিটপোলের পরিসংখ্যান বিজেপি নেতৃত্বও বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাঁরা সরকার গড়বে এই বিষয়টি বিজেপি নেতাদের চিন্তার বাইরে। কারণ বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁরা পুরোপুরি অবগত। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কাউন্টিং এজেন্টদের প্রতি সতর্কবার্তা, বিজেপি সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে। কিন্তু, তৃণমূলই তাদের প্রতিহত করেছিল, এবারও ফের তা করবে।

বৈঠকে অভিষেক আত্মবিশ্বাসের সুরে জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনী-সহ নিজেদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেও বিজেপি আবারও পরাজিত হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি, একজনও সাধারণ পর্যবেক্ষক কিংবা পুলিশ পর্যবেক্ষক পার পাবেন না। যারাই সংবিধান-বিরোধী কাজ করবেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক কথায়, গণনার দিন দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের কী করতে হবে তা বুঝিয়ে দিলেন মমতা ও অভিষেক।

বৃহস্পতিবারেই গণনায় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, ভবানীপুরের প্রার্থী মমতা ব্যানার্জি। সন্ধে থেকে মাঝরাত্তির পর্যন্ত কার্যত রাস্তায় ছিলেন তিনি। ঠিক তারপরের দিনেই জানা যায়, কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে গণনার আগেই বৈঠকে বসবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি।

বৃহস্পতিবার দলীয় নেতাদের সতর্ক করে মমতা ব্যানার্জি সাফ জানিয়েছিলেন, "আমি দু'দিন ধরে সারারাত ঘুমাইনি। বিজেপি এত করেও মানুষকে মানুষের অধিকার থেকে বঞ্ছিত করতে পারল না। তাই বিজেপি শেষ খেলাটা খেলেছে, উল্টো পাল্টা বলে কর্মীদের মনোবল যাতে ভেঙে যায়।"

কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, "কাউন্টিংকে যাতে সবাই ভালভাবে পাহারা দেয় আজ থেকেই, আমি সেটা বলব। দরকার হলে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। সব তৃণমূল প্রার্থীদের  বলব, নিজেরা পাহারা দিন। দিনের বেলায় কর্মীদের রাখুন, রাতের বেলায় নিজেরা পাহারায় থাকুন। আমি যদি পাহারা দিতে পারি, আপনারাও পাহারা দিন। স্টোর থেকে কাউন্টিং হলে নিয়ে যাওয়ার সময় ইভিএম মেশিন বদলের পরিকল্পনা করেছে, নজর রাখতে হবে। অবহেলা করবেন না।"

দলের নেতা, কর্মীদের প্রতি তাঁর নির্দেশ ছিল, তিনি না জানানো পর্যন্ত কেউ যেন গণনা কেন্দ্র না ছাড়েন। তার কয়েকঘণ্টা পরেই, পথে নামেন খোদ মমতা। বৃষ্টির মধ্যেই তিনি প্রথমে যান ভবানীপুর বিধানসভার স্ট্রং রুম শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে। সেখান থেকে তৃণমূল নেত্রীর যাওয়ার কথা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। 

রাত ১২টার পর মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, "এখানে আমার কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় ইভিএম নিয়ে কারচুপির ফুটেজ সামনে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এদিক ওদিক করছে, তাই আমি আমার কেন্দ্রে এসেছি।"

এরপরই চড়া সুরে মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, "মানুষ যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন, তার স্বচ্ছতা বজায় থাকা জরুরি। গণনায় কারচুপির চেষ্টা করলে বরদাস্ত করব না।"