আজকাল ওয়েবডেস্ক: যে দল ছেড়ে বার হয়ে এসে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করেছিলেন ভরতপুরের বিদায়ী  তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, এবার  সেই রাজনৈতিক দলকেই ভোটের ফল প্রকাশের পর সমর্থন দিতে রাজি হয়ে গেলেন তিনি! শনিবার বহরমপুরের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন ভোটের ফল প্রকাশের পর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন দেবেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন দেওয়ার জন্য একগুচ্ছ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। 

শনিবার তিনি বলেন,"রাজ্যে এবার ভোটের যা পরিস্থিতি তাতে কোনও রাজনৈতিক দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। যে দলই সর্বাধিক আসন পাক না কেন সরকার গঠন করার জন্য তাকে আমার রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিতেই হবে।" এরপরই হুমায়ুন বলেন,"আমি তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন দিতে রাজি আছি। তবে সেই সমর্থন পাওয়ার জন্য তাদের একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে।"
 
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম না করে হুমায়ুন কবীর বলেন," আমি কারও কাছে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে যাবো না। কেউ যদি আমার কাছে আসে সমর্থন নেওয়ার জন্য তাহলে তারা বিগত দিনে মানুষের সঙ্গে যে সমস্ত অন্যায় করেছে, তোলাবাজি করেছে ,জোচ্চুরি করেছে, চাকরি বিক্রি করেছে এবং যত মানুষের উপর জুলুম করেছে- সেই সমস্ত ভুল স্বীকার করবে এবং কান ধরে বলবে ভবিষ্যতে আমরা আর এরকম কাজ করব না তাহলে আমি সমর্থন দেওয়ার কথা ভাববো।"


 
তবে সরকার গড়ার জন্য কাকে হুমায়ুন কবীরকে এই কথাগুলো গিয়ে বলতে হবে তা নিয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান পরিষ্কার করে কোনও উত্তর দেননি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল দলের তরফ থেকে অভিষেক ব্যানার্জি যদি এসে এই সমস্ত কথা তাঁকে বলেন  তাহলে তিনি কোনও মতেই সেই কথায় কর্ণপাত করবেন না। তিনি বলেন ,"তাঁদের দলের (পড়ুন তৃণমূল কংগ্রেসের) যিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন , তিনি যদি এসে আমাকে এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেন তাহলেই আমি সমর্থন দেব।"
 
এরপরই হুমায়ুন কবীর দাবি করে বসেন," তৃণমূল কংগ্রেস কোনওমতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। যদি তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে আমাকে জেলে পাঠানোর চেষ্টা করবে। আমি এখনও জোর দিয়ে বলছি হুমায়ুন কবীরের সমর্থন ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দলই এবার সরকার তৈরি করতে পারবে না। যে রাজনৈতিক দলই ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে ইচ্ছুক, সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার ১৪৮-এ  পৌঁছাতে গেলে তাকে হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সমর্থন নিতেই হবে।"
 
প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন- তিনি নিজে মুর্শিদাবাদের নওদা এবং রেজিনগর দু'টি আসন থেকেই জয়ী হবেন। তবে নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর তিনি রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ করবেন। হুমায়ুনের ইচ্ছে ভবিষ্যতে সেই আসনে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়ে বিধায়ক হিসেবে রাজ্য বিধানসভায় যাবে। 

হুমায়ুন কবীর  আজ আরও বলেন,"রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তো পাগল হয়ে গিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে লোক নেই। ভোটের দিন দেখলাম সকাল থেকে ভবানীপুর আসনে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। এখন দেখলাম তিনি স্ট্রং রুমের সামনে ধর্ণা দিয়ে বাজার গরম করছেন। এই সব করে আর লাভ নেই। গত বছর ৪ ডিসেম্বর আমাকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল নিজের পায়ে যে কুড়ুল মেরেছে।  এই অন্যায়ের প্রতিবাদে যাঁরা আমাকে ভালোবাসে তাঁরা জোড়া পায়ে তৃণমূলকে লাথি মেরেছে। "
 
হুমায়ুন কবীর বলেন,"গত তিন-চার মাসে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস আমার পেছনে কী কম লেগেছে। আমার মেয়ে-জামাই-বউ ভাইপো কাউকে ছাড়েনি, সকলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। এমনকী  ২২ বছর আগে তৈরী করা আমার বাড়িতেও বেআইনি নির্মাণের নোটিশ পাঠিয়েছে। সেই নোটিশ অগ্রাহ্য করে আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে শক্তিপুর থানায় এফআইআর পর্যন্ত দায়ের করেছে। ভোটের আগের দিন আমার ভাইপোকে গ্রেপ্তার করেছে। আমার ছোট নাতনির সম্পত্তি পর্যন্ত এই সরকার 'ফ্রিজ' করে রেখেছে।"
 
তিনি বলেন,"এই সমস্ত কিছুর একটি মানে দাঁড়ায় ভোটের আগে তারা (পড়ুন তৃণমূল) আমার গায়ে হাত দিতে পারেনি। তবে তৃণমূল কংগ্রেস দল একবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবার আমার পেছনে লাগবে।"