আজকাল ওয়েবডেস্ক: হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক দল 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র সঙ্গে জোট ভাঙার পর সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে 'একলা' পথ চলা শুরু করল আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিম।
সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং তাঁর রাজনৈতিক দল এআইএমআইএম সমাজ মাধ্যমে জানিয়ে দেয় তারা পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে স্বাধীনভাবে একা লড়াই করবে এবং কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের জোট থাকবে না।
মিমের সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ার পর 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, আসাদউদ্দিন ওয়াইসির উদ্দেশ্যে কোনও বিরূপ মন্তব্য না করলেও তাঁর দাবি করা 'ফেক ভিডিও' নিয়ে ভুল রিপোর্ট দেওয়ার জন্য মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি এবং মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখকে একহাত নেন।
তাঁর অভিযোগ, এই দুই মিম নেতার সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের প্রায় কুড়ি কোটি টাকার 'ডিল' হয়েছে। তার মধ্যে ২ কোটি টাকা ইতিমধ্যে এই দুই নেতা 'অ্যাডভান্স' হিসেবে নিয়ে নিয়েছেন বলেও হুমায়ুন অভিযোগ করেছেন।
হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে জোট বাঁধার পর পশ্চিমবঙ্গে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, হুমায়ুন কবীরের সমর্থনে তাঁর প্রথম রাজনৈতিক জনসভা মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা এলাকায় করেছিলেন।
যেখান থেকে হুমায়ুন কবীর 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকে লড়াই করছেন। দুই নেতার রাজ্য জুড়ে আরও ২০ টি সভা করার কথা ছিল। তবে তার আগে দুই দলের জোট ভেঙে যায়।
তবে সোমবার যখন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় তাঁর দলের প্রার্থী ইমরান সোলাঙ্কির সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার করতে আসেন তার কিছুক্ষণ আগেই ফরাক্কা থেকে দলীয় প্রার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লার সমর্থনে নির্বাচনী সভা শেষ করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান হুমায়ুন।
মিম দল সূত্রে জানা গিয়েছে, ইমরান সোলাঙ্কির সমর্থনে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আজ থেকে পরপর তিনদিন রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত চাঁদপুর, কাশিয়াডাঙ্গা এবং নুরপুরে নির্বাচনী জনসভা করবেন।
এদিনের জনসভায় মিম প্রধান তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ অংশে তৃণমূল এবং বিজেপিকে আক্রমণ করেন। কিন্তু একবারও 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র নাম করতে শোনা যায়নি।
ইমরান সোলাঙ্কির হয়ে ভোট প্রচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন,"রঘুনাথগঞ্জের জনগণ তৃণমূল কংগ্রেসকে বারে বারে ভোট দিয়েছেন এবং এখান থেকে বিধায়ক এবং অনেককেই সাংসদ করে দিল্লিতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কেউ রঘুনাথগঞ্জে শিল্পের কথা বলেননি।"
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন,"আমার সম্পর্কে বারবার বলা হয় আমি নাকি ভোট কেটে বিজেপিকে সাহায্য করতে আসি। কিন্তু আমি প্রশ্ন তুলতে চাই মমতা ব্যানার্জির আমলে এই রাজ্যে বিজেপির চারজন বিধায়ক থেকে ৭৭ জন জন বিধায়ক হল কী করে?"
পাশাপাশি এদিনের বক্তব্যে আসাদউদ্দিন অভিযোগ করেন -মুর্শিদাবাদের ১৬ লক্ষ যুবক এখন পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করছেন। মিম প্রার্থীরা রাজ্যে জয়ী হলে শিল্পের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলার বিড়ি শ্রমিকদের জন্য মজুরি বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি অভিযোগ করেন- গত বছর কলকাতা হাইকোর্ট প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করে দিয়েছিল। তার মধ্যে ৩.৫ লক্ষ মুসলিম মানুষের সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে। তাঁদের জন্য মমতা ব্যানার্জি কিছুই করেননি।
তৃণমূল সুপ্রিমো প্রসঙ্গে এদিন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেন ,"তিনি এখানকার মুসলমানদের বিজেপির ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার জন্য ব্যবহার করেন।"
নির্বাচনী বক্তব্যে হুমায়ুন কবীরের 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র নাম উল্লেখ না করে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বললেন,"একটি ভিডিও দেখে আমি বলেছিলাম বাংলার মুসলমানদের 'সওদা' করতে পারব না। ভিডিওটি দেখেই আমি সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছিলাম (পড়ুন হুমায়ুনের দলের সঙ্গে)। কিন্তু আমি প্রশ্ন তুলতে চাই তৃণমূল কি বিজেপির সঙ্গ কখনও ছেড়েছে। এই রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদের তৃণমূল শুধু বিজেপির ভয় দেখিয়ে গিয়েছে।"















