আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং উপ-নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। গত ১৫ মার্চ পশ্চিমবঙ্গসহ অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কঠোরভাবে বলবৎ করা হয়েছে। ভোটকে হিংসা, ভয়ভীতি এবং প্রলোভনমুক্ত রাখতে কমিশনের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে বাজেয়াপ্ত হওয়া অর্থের পরিমাণ ৬৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সব রাজ্য মিলিয়ে মোট ৬৫১.৫১ কোটি টাকার সামগ্রী ও নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই তালিকায় সবথেকে ওপরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৩১৯ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ কোটি টাকা নগদ, ৬৫ কোটি টাকার মাদক এবং ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের উপহার সামগ্রী রয়েছে। এছাড়া রাজ্যে ২১ লক্ষ ২৯ হাজার ১০৩ লিটার মদ উদ্ধার করেছে কমিশন।

&t=1s

পশ্চিমবঙ্গের পরেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু, যেখানে মোট ১৭০ কোটি টাকার সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। অসমে ৯৭ কোটি, কেরলে ৫৮ কোটি এবং পুদুচেরিতে ৭ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ টাকা ছাড়াও মদ, ড্রাগস এবং দামী ধাতুর ব্যবহারের ওপর কড়া নজর রাখছে কমিশনের বিশেষ নজরদারি দল।

পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে কমিশন বর্তমানে ৫,১৭৩টিরও বেশি ‘ফ্লাইং স্কোয়াড’ মোতায়েন করেছে, যাতে যেকোনো অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় আচমকা তল্লাশি বা নাকা চেকিংয়ের জন্য ৫,২০০টির বেশি ‘স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম’ কাজ করছে। তবে এই কড়াকড়ির মাঝে সাধারণ নাগরিকরা যাতে কোনওভাবে হেনস্তার শিকার না হন, সেদিকেও কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানানোর জন্য জেলা স্তরে অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটলে নাগরিক বা রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি 'সি-ভিজিল' অ্যাপের মাধ্যমে কমিশনকে রিপোর্ট করতে পারবেন।