আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। ভিডিও বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে ইতিমধ্যেই জোট ছিন্ন করেছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল। এবার দলত্যাগ করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রাজ্য সভাপতি তথা বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ পীরজাদা খোবায়েব আমিন।
দলত্যাগের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমিন বলেন, “দলটি ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করার জন্য তৈরি হয়েছে। যে দলে একটি ধর্মের মানুষকে নিয়ে মাতামাতি করা হয়, সেই দল পশ্চিমবঙ্গের সম্প্রীতির কথা বলে না। যখন যোগ দিয়েছিলাম, তখন ভেবেছিলাম সাধারণ মানুষ, সর্বধর্মের মানুষের জন্য কাজ হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এখানে থাকতে হলে মুসলিম ভোট কাটার জন্য কাজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “মুসলিম ভোট শুধু তৃণমূলে যায় তা নয়, অন্যান্য দলও পায়। কিন্তু বাংলায় একটি নতুন দল তৈরি হল এবং হঠাৎ করে ২০০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে দিল, প্রতিটি প্রার্থীকে এক কোটি করে বাজেট দিয়ে দিল। সেই দলের উদ্দেশ্য জেতা নয়, ভোট ভাগাভাগি করা উদ্দেশ্য। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সাহায্য করাই উদ্দেশ্য।”
আম জনতা উন্নয়ন পার্টি কি তাহলে বিজেপির বি-টিম, তৃণমূলের অভিযোগই কি সঠিক? এই প্রশ্নের উত্তরে আমিন বলেন, “ভুল কিছু বলেনি।”
বৃহস্পতিবার প্রায় ২০ মিনিটের একটি ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন) ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে। সেখানে এক বিজেপি নেতার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুনকে। ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে হুমায়ুন দাবি করছেন, তাঁর সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার। ভিডিওতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা গিয়েছে, ১০০০ কোটি টাকা পেলেই রাজ্যে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব হবে। মুসলিম ভোটারদের বোকা বানাতে এই টাকা খরচ করা হবে। যদিও পুরো টাকা একেবারে চাননি তিনি। প্রথম দফায় ২০০ কোটি চেয়েছেন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক এড়াতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট ছিন্ন করেছে এআইএমআইএম। হুমায়ুন দাবি করেছেন, এআইয়ের কারসাজিতে ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। প্রমাণ করতে না পারলে মানহানির মামলা করবেন। অমিত শাহ দাবি করেছেন, বাবরি মসজিদের নির্মাতাদের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগাযোগে নেই। দরকারে ২০ বছর আরও বিরোধী আসনে থাকবে দল। এবারে দল ছাড়লেন রাজ্য সভাপতি।















