মিল্টন সেন, হুগলি: শুক্রবার বাড়ি থেকে ভোট দিলেন শতায়ু বলাগড়ের মহেন্দ্র হালদার। অপরদিকে ১২ ডি ফর্ম ফিলাপ করেও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন উত্তরপাড়ার বয়স্কা কমলা গাঙ্গুলি।
বুথে গিয়ে ভোট দিতে অসমর্থ, তাই বাড়ি থেকেই ভোট দেবেন ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে বৃদ্ধ–বৃদ্ধা বা বিশেষভাবে সক্ষমরা। নির্বাচন কমিশনের তরফে আগে থেকে বলা হলেও, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোট দিতে পড়লেন না, এরকম অনেকেই। নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি প্রবীণতম ভোটার মহলে।
হুগলি জেলার বলাগড় ব্লকে ৫১০ জন বুথে যাবেন না। শুক্রবার তাঁরা ভোট দিলেন বাড়ি থেকেই। যদিও বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন অনেকেই। গোটা জেলায় সেই আবেদন ছিল প্রায় ৩০ হাজার। যারা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যেতে পারবেন না তাদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে নাম সংগ্রহ করেছিল বিএলওরা। তাদের তালিকাভুক্ত করে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার বলাগড় ব্লকের ভোটকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যান। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ব্যালটের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলে। নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল ভোটকর্মীদের সঙ্গে।
ভোট দেন বলাগড় জিরাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কলেজপাড়ায় ১০৪ বছরের বৃদ্ধ মহেন্দ্র হালদার ও বিশেষভাবে সক্ষম বৃদ্ধ বিকাশ সরকার। মহেন্দ্র হালদারের পুত্র বিশ্বজিৎ হালদার বলেছেন, বাবা অসুস্থ। হাঁটতে পারেন না। কানেও শুনতে পান না। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যেতেও পারেন না। গত নির্বাচনেও বাড়িতেই ভোট দিয়েছিলেন। এবারও দিলেন। নির্বাচন কমিশন যে ব্যবস্থা করেছে তাতে খুশি বৃদ্ধের পরিবার। পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম বিকাশ সরকার বলেন, দুর্ঘটনার তিনি চোখ হারিয়েছেন। সেভাবে চলাহাঁটা করতে পারেন না। তাই বাড়ি থেকেই ভোট দিয়েছেন। ওদিকে অসমর্থ হয়েও সেই সুযোগ পেলেন না উত্তরপাড়ার ৯১ বছরের কমলা গাঙ্গুলি। নানান রোগ ব্যাধিতে জর্জরিত, দীর্ঘদিন তিনি শয্যাশায়ী। তাঁকে দেখাশোনা করেন দু’জন আয়া। তবুও উত্তরপাড়ার ওই ৯১ বছরের বৃদ্ধার আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। আবেদন করলেও বাড়ি থেকে ভোট দেওয়া হল না। নির্বাচন কমিশনের এই আচরণে হতবাক তাঁর পরিবার। তাঁর ছেলে অরুণাভ গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে যারা রয়েছেন তাঁদের এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আবেদন করলেও তা বাতিল হয়েছে। ১২ ডি ফর্ম ফিলাপ করিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বিএলও। উত্তরপাড়ায় এই রকম অসমর্থ ভোটারের আবেদন জমা পড়েছিল ৩ হাজারের বেশি। তার মধ্যে থেকে মাত্র ৪৭৫ জন বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিসের ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক অসমর্থ ভোটারদের এই অধিকার নির্বাচন কমিশন কেড়ে নিল, তাঁর বোধগম্য হল না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর হাসিমপুরেও ১০৫ বছরের এক বৃদ্ধ শুক্রবার ভোট দিয়েছেন।
ব্যালটে ছাপ মেরে ভোট বাক্সে ফেলে দিয়েছেন ভোটাররা। ভোটকর্মীরা সেই বাক্স নিয়ে রওনা দেন পরবর্তী গন্তব্যে।















