রাজেশ ভট্টাচার্য: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়েছে ১৫ মার্চ। অথচ, এই রাজ্যে স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন বা এসআইআর এখনও সম্পন্ন হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে কর্মরত এবং প্রাক্তন বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তারা ৬০ লক্ষ বিচারাধীন বা বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকা ধরে, কাদের নাম থাকবে আর কাদের বাদ যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। নির্বাচনের আগে ভোটার বা নির্বাচকদের তালিকা চূড়ান্ত করা নির্বাচন কমিশনের কাজ। সেই দায়িত্ব বিচারবিভাগকে নিজের হাতে তুলে নিতে হয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট এই পদক্ষেপ করেছে সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারার প্রয়োগের মাধ্যমে, যে ধারায় বলা হয়েছে, বিচারাধীন কোনও বিষয়ে 'সম্পূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার' সুনিশ্চিত করতে সুপ্রিমকোর্ট আদেশ জারি করতে পারে। এই বিশেষ ক্ষমতার উদ্দেশ্য আইনের শাসন না, আইনের ফাঁকে যাতে সামাজিক ন্যায় না আটকে যায়, সেটা সুনিশ্চিত করা।

এই পরিস্থিতি তৈরি হল কীভাবে? প্রাথমিক ঘোষণা অনুযায়ী এই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল নির্বাচন কমিশনের। এটাও জানা কথা, যে এই রাজ্যে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। তার আগেই নতুন বিধানসভা নির্বাচন করতে হবে। সেই নির্বাচনের দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের। পশ্চিমবঙ্গে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল- দু'দফায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। এপ্রিল মাসের শুরুতে দাঁড়িয়ে আসন্ন নির্বাচনে ২০০২-এর বৈধ ভোটার তালিকায় থাকা, কিন্তু যৌক্তিক অসঙ্গতির কারণে হঠাৎ বিবেচনাধীন হয়ে যাওয়া ৬০ লক্ষ মানুষের কতজন ভোট দিতে পারবেন, বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তে বাদ পড়া কতজন আপিল করতে পারবেন এবং সেই আপিলের কত শতাংশের বিচার সম্ভব হবে নির্বাচনের আগে এই প্রশ্নগুলো পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, দেশের সমস্ত রাজনৈতিক ভাবে সচেতন নাগরিককেই ভাবিয়ে তুলেছে।

কী হতে পারে? নানা সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনাও তুঙ্গে। একদিকে আলোচনা, ভোটার তালিকা অসম্পূর্ণ রেখে নির্বাচন যেহেতু অবৈধ, তাই এসআইআর সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হবে এবং রাষ্ট্রপতির শাসন কালেই নির্বাচন হবে, তা নিয়ে। অন্যদিকে আলোচনায়, নির্বাচনের আগে কোনও এক নির্দিষ্ট তারিখে এসআইআর সম্পূর্ণ হল বলে ধরা হতে পারে এবং নির্বাচন সংঘটিত হতে পারে নির্ঘণ্ট অনুযায়ী। বলাই বাহুল্য, এক্ষেত্রে বিচারবিভাগের বিবেচনায় বাদ পড়া ২০০২-এর তালিকাভুক্ত বৈধ ভোটারদের আপিল করার জন্য আইনে নির্দেশিত সময় দিতে হবে। কিন্তু সে সময় যদি পাওয়াও যায়, এই আপিলের প্রক্রিয়া কী হবে, আপিলে কি বাদ পড়া ভোটাররা উপস্থিত থেকে নিজেদের আপিলের সমর্থনে যুক্তি বা প্রমাণ দিতে পারবেন? বাদ যাওয়া ভোটারদের কোনও ধরনের আইনি সহায়তা লাগবে? বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের এবং অশক্ত, বৃদ্ধ, অসুস্থ, বিশেষভাবে সক্ষম বা তুলনায় কম শিক্ষিত মানুষদের এই নিয়ে চূড়ান্ত আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা রয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে সেটা ঠিক, কিন্তু বিষয়টা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা অনেকেরই নেই। অন্যদিকে, ভোটের দিন এগিয়ে আসছে, নির্বাচনী প্রচারে ব্যাস্ত রাজনৈতিক দলগুলি কতটা সাহায্য করে উঠতে পারবে এই লক্ষ-লক্ষ ভোটারদের, সন্দেহের অবকাশ থাকছে তা নিয়েও। ফলে, এইটুকু অন্তত বলা যায়, আইনত বৈধ হলেও, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন, ভোটারদের চূড়ান্ত মানসিক চাপ, হয়রানি এবং, বিশেষ করে গরীব মানুষের ক্ষেত্রে, ছোটাছুটি করে আপিল করতে গিয়ে, অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।

প্রথম সম্ভাবনার কথা কিছুদিন আগে অবধি চর্চায় ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশগুলোয় দ্বিতীয় সমাধানটাই সম্ভবপর এবং শ্রেয় বলে বিবেচিত হয়েছে। অন্য কোনও সম্ভাবনা বা সমাধান বিবেচ্য হতে পারত কি? একটি পথ হচ্ছে, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত খসড়া তালিকার ভিত্তিতেই নির্বাচন সংগঠিত করা। সেটা করতে গেলে, নতুন ভোটারের নাম সংযুক্ত করার এবং খসড়া তালিকায় নাম বাদ পড়ার ফলে যে দাবী এবং অভিযোগগুলো জমা পড়েছে সেগুলোর সমাধানের পরেই তা সম্ভব। আরেকটি পথ হল, এসআইআর শুরু হওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে ২০২৫ সালের যে মান্য ভোটার তালিকা আছে, তার ভিত্তিতেই বিধানসভা নির্বাচন সংগঠিত করা।

এই দুই ক্ষেত্রেই, যৌক্তিক অসঙ্গতির কারণে বিবেচনাধীন সব ভোটারদের এইবারের নির্বাচনে বৈধ ভোটার মেনেই নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু, তার মানে এই নয়, যৌক্তিক অসঙ্গতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। প্রক্রিয়া চলবে এবং সময় লাগবে শেষ করতে, তাই, এই নির্বাচনের সঙ্গে ব্যাপারটা না জুড়ে, পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তী যে নির্বাচন হবে সেখানে সেই সংশোধিত তালিকার প্রয়োগ হবে। এই যুক্তি ফেলনা নয়। মনে রাখতে হবে এই যৌক্তিক অসঙ্গতির বিবেচনা কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়। নির্বাচন সংক্রান্ত আইন এবং নিয়মাবলী এবং নির্বাচন কমিশনের ম্যানুয়াল কোথাওই 'স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন" এবং "লজিকাল ডিস্ক্রেপান্সি'র উল্লেখ নেই। এই দুটোই ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের পছন্দ করা পদ্ধতি। সুতরাং, এই পদ্ধতিগত সিদ্ধান্ত কখনই বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রেখে সঠিক সময়ে নির্বাচন করানোর সাংবিধানিক দায়িত্বের থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। প্রসঙ্গত, এই এপ্রিল মাসেই অসমে যে বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে, সেটা এসআইআর ছাড়াই হচ্ছে। গতবছর বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর হয়েছে, কিন্তু বিহারের ভোটার তালিকায় যৌক্তিক অসঙ্গতি খুঁজে দেখা হয়নি।

জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২১ নম্বর ধারার, ৩ নং উপধারা অনুযায়ী, ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধনের নির্দেশ প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যে ভোটার তালিকা বলবৎ বা কার্যকর আছে, বিশেষ সংশোধন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সেটিই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, এসআইআর শুরু করে শেষ না করতে পারলে, কোনও আইনি শূন্যতার সৃষ্টি হয় না, পুরনো মান্য তালিকার ভিত্তিতেই নির্বাচন করা সম্ভব। নির্বাচন কমিশনের ২০২৩-এর ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ম্যানুয়ালের ৯.২.২ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে যদি কমিশন মনে করে যে এই ধরনের সংশোধন করা সম্ভব নয় অথবা প্রয়োজনীয় নয়।

কেউ মনে করতেই পারেন, যে এই আলোচনা নেহাতই অ্যাকাডেমিক, আসন্ন নির্বাচনে এসআইআর শেষ করে নির্ঘণ্ট অনুযায়ী নির্বাচন করানোর পক্ষেই সুপ্রিমকোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঠিকই। কিন্তু বিষয়টা রাজনৈতিক, পদ্ধতি বা আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে কূটকচালি নয়। এখানে বিচার্য বিষয়-নির্বাচন সংক্রান্ত ভারতে যে আইন আছে, সেই অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কি স্বতঃসিদ্ধ? সমাধানের অন্য আইনসম্মত পথ কি ছিল না? সংবিধানের যে ১৪২ নং ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ করেছে, সম্পূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার করার উদ্দেশ্যেই, সেই ন্যায়বিচার কি সম্ভব হবে পশ্চিমবঙ্গের ৬০ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে? বর্তমান প্রক্রিয়ায় কোনও কারণে যদি সমস্যা দেখা দেয়, এবং নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক আপিলের বিচার যদি করা সম্ভব না হয়, তাহলে নির্বাচন হলেও, তার বৈধতা নিয়ে কি প্রশ্ন উঠতে পারে না?

যে কোনও গণতান্ত্রিক দেশেই ভোটার তালিকা সংশোধন বা যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সংস্কার স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। সমস্ত দল থেকেই বিস্তর অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে বিরোধী দলের তরফ থেকে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ ওঠাও অপ্রত্যাশিত নয়। এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও সেই প্রতিক্রিয়াই দেখা গিয়েছে। এসআইএর নির্ঘণ্ট, এসআইএর প্রক্রিয়া, এবং তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং তার সঙ্গে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এই সবকটা বিষয় বিবেচনা করেই যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।

অনেকে মনে করতে পারনে, এসআইআর নিয়ে "রাজনৈতিক দলগুলো অযথা রাজনীতি করছে" বা "পশ্চিমবঙ্গে সব বিষয়েই বড্ড বেশী রাজনীতি হয়"। এর পাল্টা যুক্তি দেওয়া যায়-নির্বাচনী গণতন্ত্রে নির্বাচনের প্রত্যেকটি প্রক্রিয়াগত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনীতি হবে না তো কী নিয়ে হবে? পাড়ার ক্লাবের বা পুজো কমিটির নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, মায় হাতাহাতি পর্যন্ত হয়, সেখানে ১০ কোটি জনসংখ্যার এক রাজ্যের সরকার নির্বাচনে লক্ষ-লক্ষ লোকের নাম বাদ যাবে, আর তা নিয়ে, রাস্তায় এবং কোর্টে, রাজনৈতিক দলগুলো মাটি কামড়ে পরে থাকবে না, এটা ভাবা বাতুলতা।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর হয়েছে এবং হচ্ছে-কিন্তু পদ্ধতি এবং চূড়ান্ত ফলাফলের দিক থেকে যথেষ্ট তারতম্য রয়েছে। বিহার দিয়ে যার শুরু। বিহারে প্রযুক্তির ব্যবহারে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে-নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে তা স্বীকারও করেছে। বৈধ ভোটার বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার, চূড়ান্ত তালিকায় ডুপ্লিকেট ভোটার থেকে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই শিক্ষাগুলো ছিল। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে এই যৌক্তিক অসঙ্গতির সহজ ও দ্রুত নিরসন হয়নি। অন্যান্য রাজ্যের তুলনা টেনে বলা যেতেই পারে, সেই রাজ্যগুলির মতো এখানে কেন হল না, সেটা নিয়েই নির্বাচন কমিশন আর রাজ্য সরকারের সংঘাত চরমে। বাইরে থেকে ঠিক কী হয়েছে, সে সম্বন্ধে নিঃসন্দেহে হওয়ার উপায় নেই। তবে, গণতান্ত্রিক নীতির দিক থেকে দু-একটা কথা বলাই যায়। সংবাদপত্র এবং সমাজ মাধ্যমের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে সংখ্যালঘু এবং মহিলা ভোটাররা, জনসংখ্যায় এবং ভোটার তালিকায় তাদের অনুপাতের তুলনায়, অনেক বেশী হারে বিবেচনাধীনের তালিকায় উপস্থিত। তাই যদি হয়, তাহলে সংবিধান-নির্দেশিত সম্পূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার করতে গেলে আরও সতর্কতা এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচারের প্রয়োজন বলেই মনে হয়। রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং নাগরিক স্বর এক্ষেত্রে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে, যা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন বা বিচারবিভাগকে সাহায্যই করে।

নির্বিঘ্নে সময়মত সব কিছু মিটে গেল কি না, এটা একমাত্র, এমনকি প্রধান বিচার্য বিষয় নয়, দেশের কোনও নাগরিক তার বৈধ ভোটাধিকার যাতে ভুলবশত (প্রযুক্তির কারণে বা পদ্ধতিগত জটিলতায়) না হারায়, সেটা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং, এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতে, পশ্চিমবঙ্গে, এই মুহূর্তে, বিচার বিভাগের। কিন্তু, এখানে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের এবং বৃহত্তর নাগরিক সমাজেরও দায় থাকে। বর্ষাকালে পাশের পাড়ায় জল জমেছে দেখে "ও কিছু না। জমেছে, নেমেও যাবে", বলে অফিস-কাছারিতে বেরিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু, ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্কে বহু মানুষ দিশাহারা, কিছুদিন পরেই তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচন হতে পারে, এই অবস্থা প্রতিটি সহনাগরিকের কাছেই অসহনীয়।

(লেখক আইআইএম ক্যালকাটার পাবলিক পলিসি এন্ড ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের অধ্যাপক। লেখাটি লেখকের ব্যক্তিগত মতামত।)