আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা এখনও অব্যাহত। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা জানা নেই। ব্রেন্ট ক্রডের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ১ মে থেকে ভারতে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম প্রায় হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম বেড়েছে অটোর এলপিজির। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ডিজেলের উপর রপ্তানি শুল্কে ছাড় ঘোষণা করল। শুক্রবার কেন্দ্র ডিজেল রপ্তানির আবগারি শুল্ক কমিয়ে লিটারে ২৩ টাকা এবং বিমান জ্বালানি (এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল)-র দাম কমিয়ে ৩৩ টাকা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য পেট্রল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্কের হারে কোনও পরিবর্তন হবে না।
অর্থ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ডিজেল রপ্তানির উপর বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক প্রতি লিটারে ৫৫.৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৩ টাকা এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের উপর ৪২ টাকা থেকে কমিয়ে ৩৩ টাকা করা হয়েছে। ১ মে থেকে শুরু করে পরবর্তী দু’সপ্তাহের জন্য ডিজেল রপ্তানির ওপর সড়ক ও পরিকাঠামো সেস শূন্য থাকবে। পেট্রল রপ্তানির ওপর শুল্কের হারও শূন্য থাকবে।
কেন্দ্র গত ২৬ মার্চ ডিজেলের ওপর প্রতি লিটারে ২১.৫০ টাকা এবং এটিএফ-এর ওপর প্রতি লিটারে ২৯.৫ টাকা রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছিল। ১১ এপ্রিলে শুল্ক বাড়িয়ে যথাক্রমে প্রতি লিটারে ৫৫.৫ টাকা এবং ৪২ টাকা করা হয়।
মার্কিন-ইজরায়েল ও ইরান যুদ্ধের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এই অপ্রত্যাশিত কর আরোপ করা হয়েছিল। এই শুল্ক আরোপের আরও একটি উদ্দেশ্য ছিল, মূল্য পার্থক্যের কারণে রপ্তানিকারকদের অন্যায্য সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত রাখা। কারণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়। যার জবাবে তেহরান ব্যাপক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যুদ্ধের আগে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলার থাকলেও, তা বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৬ মার্কিন ডলার হয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৩ মার্কিন ডলার। কেন্দ্র জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের মধ্যে রপ্তানিতে নিরুৎসাহিত করে পেট্রোলিয়াম পণ্যের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কর আরোপ করা হয়েছিল।















