আজকাল ওয়েবডেস্ক: গৃহঋণের সঙ্গে যুক্ত সুদের হার মাসিক কিস্তি (ইএমআই)-এর পরিমাণ এবং ঋণের সামগ্রিক ব্যয়ের কাঠামো নির্ধারণে একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সঞ্চয় নিশ্চিত করতে কম সুদের হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণগ্রহীতারা তাদের ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য অনুযায়ী গৃহঋণের মেয়াদ বা সময়কাল বেছে নেওয়ার সুযোগ পান, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিস্তির পরিশোধকে সুশৃঙ্খল করতে সহায়তা করে। তবে, সুদের হার বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়, যেমন ক্রেডিট স্কোর, 'লোন-টু-ভ্যালু' অনুপাত, আয়, ঋণের মেয়াদ এবং অর্থনীতির সামগ্রিক সুদের হারের পরিস্থিতি।
গৃহঋণের সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বা 'ক্রেডিটওয়ার্দিনেস' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ যেসব আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর শক্তিশালী থাকে, তাদের পক্ষে কম সুদের হারে এবং সামগ্রিকভাবে আরও সুবিধাজনক শর্তে ঋণ পাওয়া সহজ হয়।
নীচে দেশের কয়েকটি প্রধান ব্যাঙ্ক বর্তমানে গৃহঋণের ওপর যে সুদের হার ধার্য করছে, তার একটি তালিকা দেওয়া হল:
* ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া - সুদের হার বার্ষিক ৭.১ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ।
* ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র - সুদের হার বার্ষিক ৭.১ শতাংশ থেকে ৯.৬৫ শতাংশ।
* ইউকো ব্যাঙ্ক - সুদের হার বার্ষিক ৭.১৫ শতামশ থেকে ৯.৬৫ শতাংশ ৯.২৫ শতাংশ।
* পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক - সুদের হার বার্ষিক ৭.২৫ শতামশ থেকে শুরু।
* স্টেট ব্য়াঙ্ক অফ ইন্ডিয়া - সুদের হার বার্ষিক ৭.২৫ শতাংশ থেকে ৮.৪৫ শতংশ।
* আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক - সুদের হার বার্ষিক ৮.৫ শতাংশ থেকে ৯.৮ শতংশ।
* এইচডিএইসি ব্যাঙ্ক - সুদের হার বার্ষিক ৭.৭৫ শতাংশ থেকে থেকে শুরু।
* অ্যাঙ্কিস ব্যাঙ্ক - সুদের হার বার্ষিক ৮ শতাংশ থেকে থেকে ৯.১ শতাংশ।
* কানাড়া ব্যাঙ্ক - সুদের হার বার্ষিক ৭.১৫ শতাংশ থেকে শুরু।
গৃহঋণ গ্রহণকারীরা নিজেদের বসবাসের জন্য কেনা সম্পত্তির ক্ষেত্রে সুদের বাবদ পরিশোধিত অর্থের ওপর ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় বা 'ট্যাক্স রিলিফ' পাওয়ার সুবিধা ভোগ করতে পারেন। সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে, দেশের কর কাঠামোতে একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। এর আওতায় ৩১ মার্চ, ২০২০-এর আগে নেওয়া ঋণের সুদের ওপর অতিরিক্ত ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া সম্ভব। তবে এই ঋণটি ৪৫ লক্ষ টাকা বা তার কম মূল্যের বাড়ি কেনার জন্য নেওয়া হয়ে থাকতে হবে। অন্যদিকে, ঋণের মূল অর্থ বা 'প্রিন্সিপাল' পরিশোধের বিষয়টি আয়কর আইনের ৮০সি ধারার আওতাভুক্ত কর ছাড়ের সুবিধা পায়, যার সর্বোচ্চ সীমা বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা।
ব্যাঙ্কগুলো সাধারণত প্রস্তাবিত ইএমআই-এর পরিমাণ এবং ঋণগ্রহীতার মাসিক নিট আয় (বা হাতে পাওয়া বেতন)-এর মধ্যকার অনুপাত যাচাই করে গৃহঋণ পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করে থাকে। আয় বা আয়ের স্তরের ভিন্নতা অনুযায়ী, ইঅএমআই এবং আয়ের এই অনুমোদিত অনুপাতটি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত এই অনুপাতটি ২০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। একজন সহ-ঋণগ্রহীতা যুক্ত করলে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য হতে পারে।
ঋণগ্রহীতাদের জন্য সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা একটি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, কারণ এতে ব্যর্থতার দীর্ঘস্থায়ী পরিণতি হতে পারে। ঋণদাতাদের দ্বারা ছাড় দেওয়া বকেয়া-সহ পুরোনো পাওনাগুলো ক্রেডিট ইতিহাসে থেকে যেতে পারে, অন্যদিকে একটি মাত্র ইএমআই বাকি থাকলেও তা ক্রেডিট স্কোর দুর্বল করে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে ঋণ নেওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে।
অনেক ঋণগ্রহীতার জন্য, ঋণের কাগজপত্রগুলো ভীতিকর হতে পারে, কারণ এগুলো ছোট অক্ষরে লেখা জটিল আইনি পরিভাষায় পরিপূর্ণ থাকে। তা সত্ত্বেও, ভবিষ্যতে জটিলতা এড়ানোর জন্য শর্তাবলী ভালোভাবে পর্যালোচনা করা অপরিহার্য। যেখানে স্বচ্ছতার অভাব থাকে, সেখানে একজন আর্থিক বিশেষজ্ঞ বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে পরামর্শ করা একটি বিচক্ষণ পদক্ষেপ।















