আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বিশ্বজুড়ে ৩ বিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারীর অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপকে ঘিরে এক গুরুতর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। অভিযোগ—অ্যাপটি নাকি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত, এনক্রিপ্টেড কথোপকথন গোপনে পড়তে পারে। যদিও সংস্থার পক্ষ থেকে বারবার এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক এক মার্কিন তদন্তের হঠাৎ সমাপ্তি এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে, যখন এক অজ্ঞাতপরিচয় হুইসেলব্লোয়ার মার্কিন এসইসি-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয় মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কোনও না কোনওভাবে ব্যবহারকারীদের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড মেসেজ অ্যাক্সেস করতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২৫ সালে মার্কিন সরকারের তরফে একটি নীরব কিন্তু গভীর তদন্ত শুরু হয়।


তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের অধীন বিআইএস-র এক বিশেষ এজেন্টকে। প্রায় ১০ মাস ধরে তিনি এই অনুসন্ধান চালান। তদন্তে তিনি অভ্যন্তরীণ নথি খতিয়ে দেখেন, কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং প্রযুক্তিগত দিক বিশ্লেষণ করেন।


২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ওই এজেন্ট একাধিক সংস্থাকে একটি মেমো পাঠান। সেখানে তিনি দাবি করেন, মেটা নাকি হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ—টেক্সট, ছবি, ভিডিও ও অডিও—সংরক্ষণ এবং দেখার ক্ষমতা রাখে। এমনকি তিনি “tiered permissions system”-এর কথাও উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে সংস্থার কিছু কর্মী এবং ঠিকাদারদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীর কনটেন্টে প্রবেশাধিকার থাকতে পারে।


তদন্তে আরও উঠে আসে যে, কিছু কনটেন্ট মডারেটর—যারা কাজ করছিলেন তাঁদেরও নাকি ব্যাপক অ্যাক্সেস ছিল। এই তথ্য সামনে আসার পরই আচমকা তদন্তটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এজেন্টের রিপোর্টকে “অপ্রমাণিত” এবং তাঁর এখতিয়ারের বাইরে বলে মন্তব্য করেন।


অন্যদিকে, মেটা এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। সংস্থার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন স্পষ্টভাবে বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপ মানুষের এনক্রিপ্টেড কথোপকথনে প্রবেশ করতে পারে—এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।”


তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যদি সত্যিই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এতই সুরক্ষিত হয়, তাহলে কেন অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন যে তাঁদের ব্যক্তিগত কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে? যদিও প্রযুক্তিগতভাবে এর ব্যাখ্যা থাকতে পারে, সন্দেহ কাটছে না।

 

&t=123s
উল্লেখ্য ইরান ও রাশিয়ার মতো দেশ হোয়াটসঅ্যাপকে নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। এমনকি মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেসেনটেটিভসের অফিসিয়াল ডিভাইসেও এই অ্যাপ নিষিদ্ধ।
সব মিলিয়ে বলা যায় হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। তদন্ত বন্ধ হলেও, ব্যবহারকারীদের মনে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে—তাদের ব্যক্তিগত কথোপকথন সত্যিই কি নিরাপদ?