আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ১৭৮৯ সালে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন বলেছিলেন, “এই পৃথিবীতে মৃত্যু ও কর ছাড়া কিছুই নিশ্চিত নয়।” কিন্তু আধুনিক বিশ্বে এই বক্তব্য পুরোপুরি সত্য নয়। এখনও এমন কয়েকটি দেশ রয়েছে, যেখানে বৈধভাবে বসবাস করেও ব্যক্তিগত আয়কর দিতে হয় না। ফলে এই দেশগুলোকে অনেকেই ‘ট্যাক্স-ফ্রি হেভেন’ বলে মনে করেন।


এই তালিকার অন্যতম আকর্ষণীয় নাম দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই শহরে ব্যক্তিগত আয়কর নেই বললেই চলে। অধিকাংশ ব্যবসার ওপরও করের বোঝা কম। পাশাপাশি মূলধনী লাভ, ডিভিডেন্ড বা সুদের ওপরও কোনো কর দিতে হয় না। তবে এর মানে এই নয় যে এখানে কোনও কর নেই—ভ্যাট, আবগারি শুল্ক এবং আমদানি শুল্কের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব সংগ্রহ করে। তেল সংস্থাগুলির ওপর আবার আলাদা উচ্চ কর প্রযোজ্য।


একইভাবে কাতারেও ব্যক্তিগত আয়কর নেই। তবে পণ্য ও পরিষেবার ওপর প্রায় ৫% ভ্যাট আরোপ করা হয়। কিছু নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি বা শুল্কও থাকতে পারে।


কুয়েতে বাসিন্দাদের কোনও ব্যক্তিগত আয়কর দিতে হয় না। কিন্তু আমদানি শুল্কসহ কিছু পরোক্ষ কর বিদ্যমান। অন্যদিকে ইউএই-র সামগ্রিক নীতিই ট্যাক্স-ফ্রেন্ডলি—এখানে আয়কর না থাকায় কর নিবন্ধন বা রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতাও নেই।


ওমানেও ব্যক্তিগত আয়কর নেই, এমনকি সম্পত্তি, সম্পদ বা মূলধনী লাভের ওপরও কর আরোপ করা হয় না। তবে বাহারিন কিছুটা ব্যতিক্রম—নির্দিষ্ট আয়ের ওপর কর প্রযোজ্য হতে পারে, এবং তেল-গ্যাস সংস্থা বা বিদেশি ব্যাংকের ওপর উচ্চ কর আরোপ করা হয়।


ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বাহামাসে ব্যক্তিগত আয়কর, মূলধনী লাভ কর বা উত্তরাধিকার কর নেই। তবে ভ্যাট এবং স্ট্যাম্প ডিউটির মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আয় করে। ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র মোনাকোতেও ব্যক্তিগত আয়কর নেই, যদিও কর্পোরেট ক্ষেত্রে কিছু কর প্রযোজ্য।


প্রশ্ন উঠতে পারে—তাহলে এই দেশগুলো কীভাবে নিজেদের অর্থনীতি চালায়? বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচক, যেমন গ্লোবাল রেসিডেন্স ইনডেক্স অনুযায়ী, এই দেশগুলো মূলত তেল ও খনিজ সম্পদ, পর্যটন, রিয়েল এস্টেট এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যবসা থেকে আয় করে। পাশাপাশি ব্যবসা নিবন্ধন, ভিসা, লাইসেন্স, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন এবং টোলের মতো পরিষেবা ফি থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে।

 


সব মিলিয়ে, ‘ট্যাক্স-ফ্রি’ শব্দটি যতটা আকর্ষণীয় শোনায়, বাস্তবে এই দেশগুলোতে পরোক্ষ কর এবং নানা ফি-র মাধ্যমে নাগরিকদের অবদান থাকেই। তবুও, ব্যক্তিগত আয়করের অনুপস্থিতি এই দেশগুলোকে বিশ্বের কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।