আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেয়ারবাজারে বড়সড় পতন মানেই আতঙ্ক—লাল সূচক, বিক্রির চাপ, আর বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা। কিন্তু অভিজ্ঞরা বলেন, বাজারের ধসই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির সেরা সুযোগ। ঠিক এই সময়েই সামনে আসে মিউচুয়াল ফান্ডের বহুল আলোচিত ১৫×১৫×১৫ নিয়ম।


১৫×১৫×১৫ নিয়ম কী?
প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা করে ১৫ বছর ধরে বিনিয়োগ করলে, গড়ে ১৫% বার্ষিক রিটার্ন পেলে আপনার তহবিল দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি।


অবশ্যই, ১৫% রিটার্ন নিশ্চয়তা নয়। তবে ভারতের মতো দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড ঐতিহাসিকভাবে ১২–১৫% রিটার্ন দেওয়ার নজির রেখেছে।


বাজার ধসেই কেন শুরু করবেন?
বাজার পড়লে অনেকেই বিনিয়োগ বন্ধ করেন। কিন্তু ইতিহাস বলছে, বড় পতনের পরই আসে বড় পুনরুদ্ধার। যেমন ২০২০ সালের কোভিড ধসের পর নিফটি এবং সেনসেক্স দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল।


ধসের সময় এসআইপি চালু রাখলে আপনি কম দামে বেশি ইউনিট কিনতে পারেন। বাজার ঘুরে দাঁড়ালে সেই ইউনিটগুলোর মূল্য দ্রুত বাড়ে। এটাকেই বলে রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং-এর শক্তি।
১৫ বছর সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা দীর্ঘ সময়ে মসৃণ হয়ে যায়। বাজার ১–২ বছরে অনিশ্চিত হলেও ১০–১৫ বছরে অর্থনীতির বৃদ্ধি সাধারণত ইতিবাচক ফল দেয়।


কারা এই নিয়ম ব্যবহার করবেন?
যারা দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরি করতে চান
যাদের নিয়মিত মাসিক আয় আছে
যারা বাজারের অস্থিরতা সহ্য করতে পারেন
তবে সব টাকা ইক্যুইটিতে না রেখে নিজের ঝুঁকি প্রোফাইল অনুযায়ী ডেট ও হাইব্রিড ফান্ডেও ভাগ করা উচিত।


কী মাথায় রাখবেন?
১৫% রিটার্ন নিশ্চিত নয়
মাঝপথে বিনিয়োগ বন্ধ করলে লক্ষ্য পূরণ কঠিন
ফান্ড বাছাইয়ে গবেষণা জরুরি
জরুরি তহবিল আলাদা রাখা উচিত

&t=1s


শেয়ারবাজারের ধস ভয়ের কারণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর জন্য এটি সুযোগের জানালা। ১৫×১৫×১৫ নিয়ম কোনও জাদুমন্ত্র নয়, বরং শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং সময়ের সমন্বয়। আজকের আতঙ্ক যদি আপনি সামলাতে পারেন, আগামী দিনের আর্থিক স্বাধীনতা আপনার হাতের নাগালেই থাকতে পারে। বাজার পড়লে প্রশ্ন করবেন না—“কেন পড়ছে?” বরং ভাবুন—“আমি কি এখন আরও নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে পারি?”