আজকাল ওয়েবডেস্ক:  টানা চার দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর মঙ্গলবার দেশের শেয়ার বাজারে দেখা গেল মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, যা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে দিনের শেষে পতনেই বন্ধ হয়েছে দেশের দুই প্রধান সূচক সেনসেক্স ও নিফটি।


মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে বিএসই সেনসেক্স ১০৪.২৩ পয়েন্ট বা ০.১৩ শতাংশ কমে ৭৮,১৮০.৭২-এ বন্ধ হয়। একইভাবে এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ৩২.২৫ পয়েন্ট বা ০.১৩ শতাংশ হারিয়ে ২৪,৩৯৮.৭০-এ দিনের লেনদেন শেষ করে। যদিও পতনের মাত্রা খুব বেশি ছিল না, তবুও বাজারজুড়ে বিক্রির চাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।


শুধু বড় কোম্পানির শেয়ারই নয়, মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ শেয়ারেও চাপ ছিল। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক ০.৩০ শতাংশ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক ০.৫৫ শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছে। এর ফলে বাজারের বিস্তৃত অংশেই দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে।


বাজারে এই পতনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের সম্পদের উপর। বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন আগের দিনের ৪৮২.৩ লক্ষ কোটি থেকে কমে ৪৮০ লক্ষ কোটির নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ মাত্র একটি ট্রেডিং সেশনেই বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত সম্পদ ২ লক্ষ কোটিরও বেশি কমে গেছে।


সেক্টরভিত্তিক সূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিক্রির চাপ ছিল। রিয়েলটি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে নিফটি রিয়েলটি সূচক ১.৫৮ শতাংশ পড়েছে। এছাড়া মেটাল সূচক ১.১০ শতাংশ এবং ফার্মা সূচক ০.৭৩ শতাংশ কমেছে। নিফটি ব্যাংক সূচকও ০.১৬ শতাংশ দুর্বল হয়েছে।


তবে সব খাতেই যে পতন হয়েছে, তা নয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাত এদিনও শক্তিশালী ছিল। নিফটি আইটি সূচক ২.৪৩ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া কনজিউমার ডিউরেবলস সূচক ০.৮৯ শতাংশ এবং এফএমসিজি সূচক ০.০৬ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা বাজারে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।


প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্থানের পর নিফটি কিছুদিন সংযত বা কনসোলিডেশনের পর্যায়ে যেতে পারে, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক বলেই ধরা হচ্ছে। যতক্ষণ নিফটি ২৪,০০০ থেকে ২৪,২০০-এর গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট জোনের উপরে থাকবে, ততক্ষণ বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই। অন্যদিকে ২৪,৬০০ স্তরটি বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে। এই স্তর অতিক্রম করতে পারলে ধীরে ধীরে ২৫,০০০-এর দিকে এগোনোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

&t=1s
অন্যদিকে ২৪,৩০০ স্তরটি এখন নিফটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট। এই স্তরের উপরে থাকলে সূচক আবার ২৪,৫০০ থেকে ২৪,৫৫০ পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে ২৪,৩০০-এর নিচে নেমে গেলে দ্রুত ২৪,২০০ থেকে ২৪,১০০ স্তর পর্যন্ত সংশোধন দেখা যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।