আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য গঠিত অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি ও সুপারিশ জমা দিচ্ছে। এবার অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন কমিশনের কাছে এমন একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে, যা কার্যকর হলে কর্মীদের বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা এবং অন্যান্য ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হতে পারে।
বর্তমানে বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে ৮ম বেতন কমিশন বিভিন্ন রাজ্যে সফর করে কর্মচারী সংগঠন, ইউনিয়ন এবং অন্যান্যদের সঙ্গে বৈঠক করছে। কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার পঙ্কজ জৈন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক পুলক ঘোষ। কমিশন ইতিমধ্যেই প্রস্তাব গ্রহণের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ করেছে এবং এখন বিভিন্ন সুপারিশ পর্যালোচনা করছে।
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি। সংগঠনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এক্স ক্যাটাগরির শহরে কর্মরত কর্মীদের জন্য ৩৬ শতাংশ, ওয়াই ক্যাটাগরির শহরের জন্য ২৪ শতাংশ এবং জেড ক্যাটাগরির শহরের জন্য ১২ শতাংশ করা উচিত।
সংগঠনটি বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত 'ফ্যামিলি ইউনিট'-এর হিসাবেও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে তিন সদস্যের পরিবার ধরে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হলেও, তা বাড়িয়ে ৪.৪ সদস্য করা হোক, যাতে নির্ভরশীল বাবা-মাকেও অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এই পরিবর্তনের ফলে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.০৫ থেকে বেড়ে ২.১০ হতে পারে, যা সব স্তরের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মূল বেতন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
পরিবহন ভাতা বৃদ্ধির দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, লেভেল-১ কর্মীদের জন্য ন্যূনতম পরিবহন ভাতা মাসে ৯,০০০ করা উচিত। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি এবং যাতায়াতের ব্যয় বিবেচনা করে এই দাবি জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, সংগঠনের দাবি অনুযায়ী এই সমস্ত প্রস্তাব কার্যকর হলে লেভেল-১ কর্মীদের বেতন প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে যেখানে মাসিক বেতন ৩৭,০৮০, সেখানে তা বেড়ে প্রায় ৬১,৩৪৪ হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৮ম বেতন কমিশন প্রতি ১০ বছর অন্তর গঠিত হওয়া প্রথা অনুযায়ী এবারও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের কাজ করছে। কমিশন ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে প্রস্তাব এবং ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যে বৈঠক ও আলোচনা চলছে, যা আগামী কয়েক মাসও অব্যাহত থাকবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে। যদিও অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের জাতীয় সভাপতি ড. মঞ্জিত সিং প্যাটেলের মতে, আগামী অর্থবর্ষের শুরুতে অর্থাৎ ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসেই বড় ঘোষণা আসতে পারে।
তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রকাশের পর তা পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। ফলে ২০২৭ সালে সুপারিশ প্রকাশিত হলেও নতুন বেতন কাঠামোর সম্পূর্ণ সুবিধা কর্মচারীরা ২০২৯ বা ২০৩০ সালের মধ্যে পেতে পারেন। কমিশনের সুপারিশে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী উপকৃত হবেন।















