আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গত কয়েক মাস ধরে এটিএমে নগদের ঘাটতির অভিযোগ বাড়তে থাকায় নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যাঙ্ক শাখা এবং এটিএম নেটওয়ার্কে নগদের অবস্থা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। বিশেষ করে গত তিন মাসে একাধিক রাজ্যের টিয়ার-২ শহর এবং ছোট শহরগুলিতে এটিএমে নিয়মিত নগদ না থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে।
জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কাছে তাদের শাখায় কত পরিমাণ নগদ মজুত রয়েছে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হল, ব্যাঙ্কগুলি এটিএমে সময়মতো নগদ ভরার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সংরক্ষণ করছে কি না, তা যাচাই করা। যদি তদন্তে দেখা যায় যে কোনও ব্যাঙ্ক এটিএমে পর্যাপ্ত নগদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সহ একাধিক ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রয়োজনের সময় এটিএমে গিয়ে নগদ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই এটিএমে "No Cash" বার্তা দেখা যাচ্ছে, ফলে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই সমস্যার প্রভাব পড়েছে এটিএমে নগদ সরবরাহকারী ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলির ওপরও। তাদের দাবি, ব্যাঙ্ক থেকে পর্যাপ্ত নগদ না পাওয়ায় সময়মতো এটিএমে টাকা ভরা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এটিএম দীর্ঘ সময় খালি থাকছে এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে।
তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, শাখায় যে নগদ মজুতের হিসাব দেখানো হয়, তার পুরোটা এটিএমে ব্যবহারযোগ্য নয়। কারণ ওই মজুদের মধ্যে অনেক পুরনো, নষ্ট বা অচল নোটও থাকে, যা সরাসরি এটিএমে ভরা যায় না। ফলে কাগজে-কলমে নগদের পরিমাণ বেশি দেখালেও, বাস্তবে এটিএমে ব্যবহারের উপযোগী নোটের সংখ্যা অনেক কম থাকে।
ব্যাঙ্কিং শিল্পের প্রতিনিধিদের মতে, বর্তমানে এটিএম পরিচালনা করা ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এটিএম রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, নগদ পরিবহন এবং নিয়মিত ক্যাশ রিফিলের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ব্যাঙ্কগুলির আয় বাড়েনি। ফলে নতুন এটিএম স্থাপন কিংবা পুরনো নেটওয়ার্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক ব্যাঙ্কই আগ্রহ হারাচ্ছে।
এর আগেই এটিএম শিল্পের সংগঠন এই সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। জুন মাসে সংগঠনটি ইন্ডিয়ান্স ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি লিখে ব্যাঙ্কগুলিকে পর্যাপ্ত নগদ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এটিএমে নগদ সরবরাহের হার মাত্র ৫৭ থেকে ৬৪ শতাংশের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় নগদের একটি বড় অংশ সময়মতো এটিএমে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এটিএমে নগদের ঘাটতি দেখা গিয়েছে।
&t=1s
এই পরিস্থিতিতে আরবিআই-র পর্যালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি ব্যাঙ্কগুলির নগদ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ধরা পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে এটিএমে নিয়মিত নগদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নতুন নির্দেশিকা বা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।















