আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অপেক্ষায় থাকা সংস্থাগুলির মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, সম্প্রতি কেন্দ্র সরকারের প্রকাশিত স্পেকট্রাম বরাদ্দ সংক্রান্ত খসড়া নিয়মে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় গ্লোবাল মোবাইল পার্সোনাল কমিউনিকেশন বাই স্যাটেলাইট লাইসেন্স কাঠামোর কোনও স্পষ্ট উল্লেখ রাখা হয়নি। এর ফলে স্টারলিঙ্ক, ওয়ানওয়েব, জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং অ্যামাজনের মতো সংস্থাগুলির পরিষেবা চালুর প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবার জন্য জিএমপিসিএস লাইসেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই স্টারলিঙ্ক, ওয়ানওয়েব এবং জিও স্যাটেলাইট এই লাইসেন্স পেয়েছে। তবে স্পেকট্রাম কীভাবে বরাদ্দ হবে এবং তার মূল্য কত হবে, সেই বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
ব্রডব্যান্ড ইন্ডিয়া ফোরামের সভাপতি টি. ভি. রামচন্দ্রন টেলিকম সচিব অমিত আগরওয়ালকে লেখা এক চিঠিতে এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাক্ট ২০২৩-এর প্রথম তফসিলে একে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও খসড়া নিয়মে তার উল্লেখ না থাকা শিল্প ও বিনিয়োগকারীদের কাছে উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে।


উল্লেখ্য, টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাক্ট ২০২৩ অনুযায়ী সরকার কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্পেকট্রাম নিলাম ছাড়াই প্রশাসনিকভাবে বরাদ্দ করতে পারে। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ব্রডব্যান্ড পরিষেবাও অন্তর্ভুক্ত। সেই লক্ষ্যেই সম্প্রতি টেলিকম বিভাগ খসড়া নিয়ম প্রকাশ করে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত চেয়েছে। 


সরকারি সূত্রের দাবি, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। বিশেষ করে তথ্য দেশের বাইরে চলে যাওয়া বা ডেটা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাইয়ের সুপারিশও সরকার পর্যালোচনা করছে।


শিল্পমহল সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যে, খসড়া নিয়মে একে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দ, শর্তাবলি ও মূল্য নির্ধারণের কাঠামোর সঙ্গে তা যুক্ত করা হোক। তাদের মতে, এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং পরিষেবা চালুর পথ আরও পরিষ্কার হবে।


এদিকে স্পেকট্রাম মূল্যের বিষয়ে ট্রাই ২০২৫ সালের মে মাসে সুপারিশ করেছিল যে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সংস্থাগুলিকে তাদের অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউয়ের ৪ শতাংশ স্পেকট্রাম চার্জ হিসেবে দিতে হবে। পাশাপাশি লাইসেন্স ফি হিসেবে আরও ৮ শতাংশ এজিআর জমা দিতে হবে। শহুরে বাজারে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা রুখতে নগর এলাকায় স্থায়ী স্যাটেলাইট পরিষেবার ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রতি বছরে অতিরিক্ত ৫০০ ফি নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাই। 

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল বাজার। প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে স্পষ্ট নীতি ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের কাঠামো ছাড়া এই খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে না। তাই এখন শিল্পমহলের নজর সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে, যা ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।