আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বেতনভোগী কর্মীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলির মধ্যে অন্যতম হল ফর্ম ১৬। নিয়োগকর্তারা কর্মীদের এই নথি প্রদান করেন এবং এর ভিত্তিতেই অধিকাংশ মানুষ আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। সম্প্রতি ফর্ম ১৩০ নিয়ে বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হওয়ায় অনেক করদাতার মনে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি ফর্ম ১৬ তুলে দেওয়া হচ্ছে? কর রিটার্ন জমা দেওয়া কি আরও জটিল হয়ে উঠবে?
তবে করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবর হল, চলতি আর্থিক বছরের জন্য ফর্ম ১৬-ই বহাল থাকছে। তাই এবারের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
কী এই Form 130?
Form 130 হল একটি বার্ষিক টিডিএস সার্টিফিকেট, যা নতুন Income-tax Act, 2025 কার্যকর হওয়ার পর নিয়োগকর্তারা বেতনভোগী কর্মী ও পেনশনভোগীদের প্রদান করবেন।
বর্তমান ফর্ম ১৬-এর মতোই এতে কর্মীর বেতন, নিয়োগকর্তার দ্বারা কাটা টিডিএস, সরকারের কাছে জমা দেওয়া কর এবং করছাড় সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ থাকবে। অর্থাৎ মূল উদ্দেশ্য একই থাকলেও নতুন আইনের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর নাম ও বিন্যাস পরিবর্তন করা হচ্ছে।
কেন আনা হচ্ছে নতুন ফর্ম?
Form 130 চালুর মূল কারণ হল Income-tax Act, 2025 এবং নতুন আয়কর বিধির বাস্তবায়ন। নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পরিচিত “Assessment Year” শব্দটির পরিবর্তে “Tax Year” ব্যবহৃত হবে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন। সরকারের উদ্দেশ্য হল নতুন আইনের সঙ্গে সব ফর্ম ও প্রক্রিয়াকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
কী কী নতুন তথ্য থাকবে?
প্রস্তাবিত Form 130-এ কিছু অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করা হতে পারে। যেমন—
কর্মী ও নিয়োগকর্তার ই-মেল আইডি
মোবাইল নম্বর
দেশভিত্তিক কোড সংক্রান্ত তথ্য
প্রযোজ্য TDS হার
কর কাটা ও জমা দেওয়ার বিস্তারিত তথ্য
এই পরিবর্তনগুলির লক্ষ্য হল কর ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আনা এবং ডিজিটাল প্রশাসনকে শক্তিশালী করা।
ভবিষ্যতে করদাতাদের উপর কী প্রভাব পড়বে?
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ফর্ম ১৩০ চালু হলেও বেতনভোগী করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়ায় বড় কোনও পরিবর্তন আসবে না। বর্তমানে ফর্ম ১৬-তে যে তথ্য পাওয়া যায়, তার অধিকাংশই ফর্ম ১৩০-এ থাকবে।
বরং নতুন কাঠামো কর সংক্রান্ত তথ্য আরও সহজভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি আয়কর দফতরের ডিজিটাল উদ্যোগ, প্রি-ফিলড রিটার্ন এবং স্বয়ংক্রিয় ডেটা যাচাই ব্যবস্থার সঙ্গে এটি আরও কার্যকরভাবে কাজ করবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ফর্ম ১৩০ আসলেও তা ফর্ম ১৬-এর বিকল্প হিসেবেই কাজ করবে। ফলে বেতনভোগী কর্মীদের জন্য নতুন কোনও জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।















