আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার রুপি-র দর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। অপরিশোধিত তেলের দামের বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে রুপির ওপর নতুন করে চাপ বেড়েছে। রকের্ড গড়ে এই প্রথমবার ভারতীয় রুপি ৯৩ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে।
এ দিন মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে রুপি-র দর ৯৩.১৫। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত তীব্র আকার নেওয়ায় রুপির সাম্প্রতিক দরপতন অব্যাহত রইল। এই সংঘাত জ্বালানি পরিকাঠামোকে ব্যাহত করেছে এবং অপরিশোধিত তেলের দামকে অনেকটা বেড়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরেই রয়েছে। যা ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়, কারণ ভারত নিজস্ব তেলের চাহিদার একটি বিশাল অংশ আমদানি করে থাকে। তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং রুপির ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি হয়।
একই সময়ে, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে 'ঝুঁকি-বিমুখ' মনোভাব তৈরি করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ডলারের মতো 'নিরাপদ আশ্রয়স্থল' হিসেবে বিবেচিত সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং রুপি-সহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এই অনিশ্চয়তার আবহে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও ভারতীয় শেয়ার বাজারে তাদের শেয়ার বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা রুপির ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি করেছে। যখন বিশ্বের বিভিন্ন তহবিলগুলো বাজার থেকে অর্থ তুলে নেয়, তখন তারা রুপিকে ডলারে রূপান্তর করে, যা রুপির দরপতনের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করে। পাশাপাশি, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সতর্ক অবস্থানও এই চাপের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে, এর প্রভাব কেবল মুদ্রাবাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দুর্বল রুপি এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম - এই দুইয়ের সংমিশ্রণ আমদানিনির্ভর মুদ্রাস্ফীতিকে উস্কে দিতে পারে (বিশেষ করে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে), যার ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ভোক্তাদের খরচ বৃদ্ধি পাবে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা এখন পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের গতিপ্রকৃতি, অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং রুপিকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে কোনও হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না - সেসব বিষয়ের ওপর নজর রাখছেন।
