আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বুধবার সকালে ভারতীয় টাকার দাম সর্বনিম্ন পতন দেখল। ফলে দেশের আর্থিক বাজারে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকা ৯১-এর সীমা পেরিয়ে ৯১.৩৮ পর্যন্ত নেমে যায়, যা এপর্যন্ত সর্বনিম্ন মূল্য। পরে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরলেও বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পতন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে গভীর চাপের প্রতিচ্ছবি।


টাকার এই তীব্র অবমূল্যায়নের পেছনে অন্যতম কারণ বিশ্বের অনিশ্চয়তার বৃদ্ধি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি-সচেতন হয়ে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। এর ফলে মার্কিন ডলারের মান বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে মুদ্রার চাপে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন বাণিজ্য উত্তেজনা, রাজনৈতিক উদ্বেগ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকির প্রবণতা বাজারগুলোর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের শেয়ারবাজারে দুর্বলতা আরও সামনে এসেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা তীব্রভাবে বেড়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আচরণও টাকার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। শেয়ার ও বন্ড বাজার থেকে ধারাবাহিক বৈদেশিক অর্থ বেরিয়ে গেছে, যার ফলে দেশে ডলার সরবরাহ কমেছে এবং টাকা আরও দুর্বল হয়েছে।


২০২৫ জুড়ে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক বিক্রির পর, ২০২৬ সালের শুরুতেও এই প্রবণতা অব্যাহত আছে। বিদেশি ফান্ড যখন বাজার থেকে টাকা তুলে নেয়, তারা প্রথমে টাকাকে ডলারে রূপান্তর করে, যা স্বাভাবিকভাবেই ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে দেয় এবং টাকাকে নিচে ঠেলে দেয়। 


বিশ্বের কমোডিটি দামের উত্থান এবং দুর্বল টাকা মিলিয়ে ভারতীয় কোম্পানিগুলো হেজিং বাড়াতে বাধ্য হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি দামে ডলার কিনতে না হয়। এই ডলার কেনা টাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। 


ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক টাকার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করছে বলে মনে করছেন ট্রেডাররা। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনও নির্দিষ্ট স্তর রক্ষা করতে আগ্রহী নয়। বরং তারা বাজারের প্রবাহ অনুযায়ী মুদ্রার স্বাভাবিক সামঞ্জস্যকে অনুমতি দিয়েছে। 


টাকা ৯১-এর ওপরে থাকায় অর্থনীতিতে বিস্তৃত প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি, ইলেকট্রনিক্স, শিল্প উপাদানসহ আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতিকে আবারও ত্বরান্বিত করতে সক্ষম। বিদেশ ভ্রমণ ও বিদেশে পড়াশোনা আরও ব্যয়বহুল হবে। স্টক মার্কেটে অস্থিরতাও বাড়তে পারে। তবে রপ্তানিকারক সংস্থাগুলো টাকার দুর্বল পরিস্থিতির ফলে আয় বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারে।
স্বল্পমেয়াদে টাকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বিশ্বের বাজারের ওপর। সেখানে ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা ফেরার ইঙ্গিত মিললে টাকার ওপর চাপ কমতে পারে। বিপরীতে নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ বা বৈদেশিক বিক্রির চাপ বাড়লে টাকা আরও দুর্বল হতে পারে।


তবে টাকা এখন অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বের অনিশ্চয়তা, দেশীয় বাজারের দুর্বলতা এবং ডলারের জোরালো চাহিদার মিলিত চাপে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখান থেকে পরিস্থিতি শোধরানোর কোনও উপায় নেই।